Abhishek Banarjee

জেরা ঠেকাতে অভিষেকের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

রাজ্য

হাই কোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টে কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার জানিয়েছে যে সিবিআই জিঞ্জাসাবাদ সংক্রান্ত যেই নির্দেশ বিচারপতি অমৃতা সিনহা দিয়েছিলেন তা বহাল থাকবে। সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ১০ জুলাই ফের এই মামলার শুনানি হবে।

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ চিঠি দিয়ে আদালতে জানিয়ে ছিলেন যে তদন্তকারি সংস্থা তার ওপর চাপ তৈরি করছে অভিষেক ব্যানার্জির নাম বলার জন্য। তার সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআইকে নির্দেশ দেন অভিষেককে জেরা করার। হাই কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক ব্যানার্জি। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে মামলা ফের হাই কোর্টের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য এই মামলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে সড়িয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে মামলা যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে।

গত ১৮ মে অভিষেক ব্যানার্জির পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন করা হয় রায় পুর্নবিবেচনা করার। বিচারপতি সিনহা সেই আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দেন যে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য কুন্ত এবং অভিষেককে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন তিনি। কিন্তু এদিন সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জরিমানার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে ১০ জুলাই ফের শুনানি হবে। 

গত শনিবার নিজাম প্যালেসে অভিষেককে জেরা করেছে সিবিআই। জেলায় জেলায় এজেন্ট চক্র তৈরি করেই টাকা তোলা হয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে। সেই টাকা নানান স্তর পেরিয়ে পৌঁছে যেতো শীর্ষ মহলে, তদন্তের প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। 

এর আগে ২০ মে কলকাতার নিজাম প্যালেসে অভিষেককে জেরা করে সিবিআই। সকাল এগারোটা থেকে রাত আটটা চল্লিশপ্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টার জেরা শেষে বাইরে বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেছিলেন যে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ৯০ শতাংশ প্রশ্ন ‘বোগাস’। তবে তাঁর কথাতেই বেরিয়ে পড়ে যে এজেন্ট চক্র নিয়ে জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘ভিতরে কী কথা হয়েছে তা সবটা তো বলব না। তবে তদন্তকারী যে সব নাম ধরে আমি তাদের চিনি কি না জানতে চেয়েছেন তার বেশিরভাগটাই পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ। এটুকু বলতে পারি আমার কাছে যে নাম জানতে চাওয়া হয়েছে তার ৯০ শতাংশ পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের।’। তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী এখন বিজেপি নেতা শুভন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘তাহলে সেই সময় এই দুই জেলার দায়িত্বে দলের থেকে কে ছিল ? কে দেখত ঐ দুই জেলা? তাঁকে কেন জেরা করা হবে না?’’  কিন্তু সংবাদমাধ্যমে এই ব্যাখ্যা অভিষেক দেননি কেন বারবার জেরা ঠেকাতে তাঁকে ছুটতে হচ্ছে আদালতে। এদিন সুপ্রিম কোর্টেও সেই আবেদন বাতিল হলো। বিচারপতি  জেকে মাহেশ্বরী ও পিএস নরসিমহার অবসরকালীন বেঞ্চ এদিন এই আবেদন খারিজ করেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment