USA Layoff

মার্কিন সংস্থায় বেপরোয়া ছাঁটাই প্রতিরোধে তৈরি হচ্ছে ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক

তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানিতে শুরু হয়েছে দেদার ছাঁটাই। চলছে বেতন কমানো, কাজের সময় বাড়িয়ে চাপ বাড়ানো। গড়ে উঠছে পালটা শ্রমিক প্রতিরোধও। একের পর এক কর্পোরেট কোম্পানিতে এখন ইউনিয়ন গড়ার দাবি উঠেছে। 
প্রসঙ্গত, নয়া উদারবাদের জমানায় গড়ে ওঠা নতুন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চলছে এই বেপরোয়া ছাঁটাই অভিযান। অনেকের মত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৮সালের মহামন্দাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে এবারের অর্থনৈতিক সঙ্কট। কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তোলা অর্থনীতিতে তৈরি বুদবুদ ফেটে যাওয়ায় ধসে যায় আর্থিক ব্যবস্থা। দেউলিয়া হয়ে পড়ে ব্যাঙ্ক ও বিমার মতো সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একই হাল কি এখন শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থার বড় বড় কোম্পানিতে? বড় করে বাড়িয়ে তোলা কোম্পানিতে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে মানুষের আয় কমে বিক্রি কমে কি নাজেহাল সব সংস্থা? তাতেই কি ছাঁটাই অনিবার্য হয়ে পড়ছে খোদ আমেরিকায়?


খুচরো বিপণনে বহজাতিক সংস্থা অ্যামাজনের ক্যালিফোর্নিয়া  রিজিওনাল অফিসে মঙ্গলবার ২৬০ জনকে ছাঁটাই করা হচ্ছে বলে নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কর্মীরা সকলেই উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা এবারে ছাঁটাই হচ্ছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেটা বিজ্ঞানী, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্পোরেটের প্রযুক্তি নির্ভর উচ্চতর কাজের দায়িত্বে যুক্ত কর্মীরা। আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে আরও কর্মী ছাঁটাই চলবে বলে কোম্পানি সূত্রে খবর। বর্তমানে  অ্যামাজনের কর্মীসংখ্যা ১৫ লক্ষ। 


মহামারীর সময়ে অনলাইন বিক্রি বেড়ে চলায় সেসময় প্রচুর মুনাফা করেছে অ্যামজনের মতো সংস্থা। এবার মহামারীর পর সব স্বাভাবিক হয়ে পড়ায় কমেছে বিক্রি। মুনাফাও কমেছে বিপুল হারে। এতেই কর্মী সঙ্কোচনের খাঁড়া নেমে এসেছে সংস্থায়। এপ্রসঙ্গে অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি নানটেল বলেছেন, অর্থনৈতিক সঙ্কট চলায় সংস্থার কর্মী সঙ্কোচনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যখন অবস্থা ভালো সব বেশি নিয়োগ হয়েছে অ্যামাজনে। এবারে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় কিছু ব্যবস্থা তো নিতে হবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটেও ছাঁটাই নিয়ে সংস্থার বক্তব্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও অ্যামাজনে ঠিক কতজন ছাঁটাই হতে চলেছেন তার পুরো সংখ্যা জানানো হয়নি। তবে ব্যবসার পরিধি যেভাবে কমানো হচ্ছে তাতে ছাঁটাই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
অন্যদিকে ফেসবুকে মেটা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তাদের ১১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে, যা সংস্থার মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ। টুইটারের নতুন মালিক এলন মাস্ক জানিয়ে দিয়েছেন, ছাঁটাই করে তাদের সংস্থার ৫০ শতাংশ কর্মী কমিয়ে আনা হচ্ছে।


এদিকে ছাঁটাই রুখতে আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থায় প্রতিরোধে নামছেন কর্মীরা। সিয়াটেলের নামকরা কফি স্টোর স্টারবাকসের কর্মীরা ছাঁটাই রুখতে ধর্মঘটে নামছেন। আমেরিকায় স্টারবাকসের বিভিন্ন স্টোরে যুক্ত আছেন ৯ হাজার কর্মী। প্রতিটি স্টোরে চলছে কর্মী সঙ্কোচন, কাজের সময় বাড়ানো, কাজের চাপ বাড়ানো। এবং অবশ্যই বেতন কমানো। আগে সংস্থায় ইউনিয়ন গঠনে আগ্রহী ছিলেন না কর্মীরা। কর্মীদের উপর আক্রমণ বেড়ে চলায় ইউনিয়ন গঠনে সরব হয়েছেন কর্মীরা। ন্যাশনাল লেবার রিলেশন বোর্ড জানাচ্ছে, স্টারবাকসের ২৫৭ স্টোরের কর্মীরা ইউনিয়ন গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। মাত্র ৫৭টি স্টোরের কর্মীরা ইউনিয়নের গঠনের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। ইউনিয়ন নেতারা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন বিভিন্ন স্টোরের কর্মীরা ইউনিয়নে সংগঠিত হচ্ছেন। আমেরিকায় এবার ধর্মঘটের নতুন নজির তৈরি করবেন কর্মীরা, বলছেন অনেকে।
 

Comments :0

Login to leave a comment