বইকথা
নতুনপাতা
----------------------------------
ভগৎ সিং কে চিনতে হলে
----------------------------------
কৃশানু ভট্টাচার্য্য
১৬ মার্চ ২০২৬, বর্ষ ৩
প্রশ্ন উঠতে পারে তিনি কে? কারাগারে বন্দি থাকবার সময় অনুরাগীদের লেখা একটি চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিতে গোটা সমাজের পুনর্গঠন করাই তাঁর স্বপ্ন। কৃষক ও শ্রমিকের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার হস্তান্তর তাঁর লক্ষ্য। তাঁর একমাত্র ইচ্ছা, 'সর্বহারার বিপ্লব এবং সর্বহারার জন্য বিপ্লব।'
প্রকাশ্যে বলেছিলেন, " আমি সন্ত্রাসবাদী নই, আমি একজন বিপ্লবী যার একটা দীর্ঘ কর্মসূচির সম্পর্কে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধারণা রয়েছে।"
১৯২৯ সালের ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় পাঞ্জাব ছাত্র সম্মেলনের অধিবেশনে জেল থেকে তিনি এবং তাঁর বন্ধু বটুকেশ্বর দত্ত যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন সে বার্তায় বলা হয়েছিল, " আজ আমরা যুব সমাজকে পিস্তল বোমা হাতে তুলে নিতে বলতে পারি না। আর ছাত্রদের সামনে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। আগামী লাহোর অধিবেশনে কংগ্রেস দেশের স্বাধীনতার জন্য কঠোর সংগ্রামের ডাক দেবে। জাতীয় ইতিহাসের এই সংকটকালেই যুব সমাজকে এক বিশাল দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের দায়িত্ব শিল্প এলাকার কোটি কোটি বস্তিবাসী এবং কোটি কোটি জীর্ণ কুটির বাসী গ্রামীণ মানুষকে জাগিয়ে তোলা, যাতে আমরা স্বাধীন হতে পারি, যাতে মানুষের হাতে মানুষের শোষণ হয়ে ওঠে অসম্ভব।"
তিনিই ভগৎ সিং- এদেশের যুবকদের চোখে এখনো পর্যন্ত তিনি একটি বলিষ্ঠ আদর্শ । দেশমাতৃকার বন্ধন মুক্তির আন্দোলনে যিনি প্রাণ দিয়েছিলেন ফাঁসি কাঠে। ১৯৩১ এর ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় লাহোরে তাঁর প্রাণদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। লাহোর থেকে ৬১ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হল হোসেনীওয়ালা বলে একটি জায়গায়। ভয় ছিল এদেশের মানুষ এই তরুণ বিপ্লবীদের প্রাণ দণ্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ব্রিটিশ শাসনের ভিতকে টলে যেতে পারে। ভগৎ সিং এর জীবনের নানা পর্ব নিয়ে তীর্থঙ্কর চট্টোপাধ্যায় একটি অসাধারণ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ৭২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে সাতটি অধ্যায় বর্ণিত ভগৎ সিং এর রাজনৈতিক কর্মকান্ড , তাঁর প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী সময়ে ভগৎ সিংয়ের আত্মত্যাগের রাজনৈতিক যৌক্তিকতা এবং প্রাসঙ্গিকতা। এ বই সকলের অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত।
ভগত সিং - শহীদ এ আজম তীর্থঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড
Comments :0