Migrant Workers

বাড়ি ফিরল বৃন্দাবনে দুর্ঘটনায় মৃত সিতাইয়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ

রাজ্য জেলা

পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে, প্রত্যেকের থালায় এক মুঠো ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের ব্যবস্থা করতে ওঁরা দুজন ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিল ভোটের পরে।রবিবার ওদের বাড়িতে যখন কফিন বন্দী দেহ ফিরে এলো তখন দুই বাড়িতেই উধাও হাসি, শুধুই তখন কান্নার রোল।
আর দুই বাড়িতেই প্রতিবেশীদের সেই পুরনো আফশোষ "গ্রামে কাজ থাকলে এভাবে ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারাতে হত না। স্ত্রী হারাতো না স্বামীকে আর সন্তান হারাতো না প্রিয় বাবাকে।
সিতাইয়ের সাতভান্ডারী গ্রামের রফিউল মিয়া(২৭) নিজের ৫ বছরের ছেলেকে বাড়িতে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনের " রুকমিনী বিহারের" একটি শপিংমলের বিল্ডিং নির্মানের কাজ করতে। সেখানেই কাজ করতে গিয়েছিল পাশের অন্দরান সিঙ্গিমারী গ্রামের (২৮) বছরের আলম মিয়াও।
শুক্রবার সকাল ৮ টা নাগাদ ওই বিল্ডিংয়ের চারতলায় ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। কাজের সময় আচমকাই "শাটারিং ভেঙে নিচে পড়ে যায় রফিউল, আলম এবং সিতাইয়ের বড়থর গ্রামের আরেক পরিযায়ী শ্রমিক দিলদার মিয়া। তড়িঘড়ি ৩ জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যায় অন্য শ্রমিকেরা। কিন্তু দিলদার চিকিৎসায় সাড়া দিলেও রফিউল এবং আলম মারা যায় হাসপাতালেই।
রফিউলের প্রতিবেশী শফিকুল মিয়া বলেন, রফিউলরা তিন ভাই তিন বোন। সবাই পরিযায়ী শ্রমিক। গ্রামে তো কাজ নেই। শুধু ওঁরা নয় আমাদের এখানকার সব পরিবারের দু একজন করে ভিন রাজ্যে কাজ করে।
রফিউলের স্ত্রী স্বামীর কফিন বন্দী মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কোন কথাই বলছিলেন না।
অন্যদিকে দীর্ঘ ২৫/১৬ বছর থেকে ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো অন্দরান সিঙ্গিমারি গ্রামের আলম। স্ত্রী এবং ছেলেও সঙ্গেই ছিল। স্বামীর কফিন বন্দী দেহ নিয়ে তিনিও ফিরে এসেছেন ভিটেতে।
দুই পরিবারের মৃতদের একটাই স্বপ্ন ছিল সংসারের তীব্র অভাব গ্রামে থাকলে মিটবে না। ভিন রাজ্যে কাজ করে বৃদ্ধ বাবা-মা কে একটু সুখে রাখবে। দুই পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানকে হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন।
দুই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই বাড়িতেই জব কার্ড আছে। কিন্তু আগের সরকার কিংবা নতুন সরকারের আমলে মেলে নি ১০০ দিনের কাজ। ফলে ভিন রাজ্যে যাওয়া ছাড়া তাদের আর গতি নেই।
দূর্ঘটনায় জখম সিতাইয়ের বড়থর গ্রামের দিলদার মিয়া চোখের সামনে নিজের পরিচিতদের মৃত্যুর ঘটনা দেখেও ভিন রাজ্যে কাজ ছেড়ে ফিরতে চান না। সুস্থ হয়ে ফের কাজে যোগ দিতে চান বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কারণ গ্রামে ফিরলে তো কাজ মিলবে না। না খেয়ে মরতে হবে। তাই বিপদের ঝুঁকি নিয়ে ভিন রাজ্যে কাজ করা ছাড়া কোন পথ খোলা নেই দিলদার মিয়ার।
অন্দরান সিঙ্গিমারি গ্রামের বৃদ্ধ ফজলুর রহমানের পুত্র ও পুত্রবধূ ভিন রাজ্যে কাজ করে। গলায় উৎকন্ঠা নিয়ে ফজলুর মিয়া জানালেন, ছেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছে।নিরাপত্তা নেই কিন্তু কাজ তো আছে। তাই সেও স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামে ফেরার কথা ভাবছে না।

Comments :0

Login to leave a comment