Dooars Bunglow

গোরুমারা লাগোয়া দুই বনবাংলোয় শুরু হচ্ছে পুজোর বুকিং

জেলা

ডুয়ার্সে সরকারি বনবাংলোয় শুরু হচ্ছে বুকিং।

শহুরে কোলাহল, যানজট আর পুজোর ভিড় থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এবারের শারদীয়ার সেরা গন্তব্য হতে পারে ডুয়ার্সের বনবাংলো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বন দপ্তরের উদ্যোগে ফের খুলতে চলেছে একাধিক বনবাংলো। ফলে পুজোর আগেই পর্যটকদের সামনে খুলে যাচ্ছে জঙ্গলঘেরা এক নতুন সম্ভাবনা।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায়ই ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যাচ্ছে। তখন ডুয়ার্সের সবুজ অরণ্যাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সহনীয়। ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি হাওয়া আর অসংখ্য নদী-ঝোরার কারণে এখানকার পরিবেশে থাকে স্বস্তির ছোঁয়া। বর্ষার পরে শরৎকালে আকাশ পরিষ্কার হলে জঙ্গলের রূপ আরও মোহময় হয়ে ওঠে।
গোরুমারা জঙ্গলের লাগোয়া হর্নবিল ও রামসাই এলাকার ‘রাইনো ক্যাম্প’ বনবাংলো বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হতে চলেছে। বনবাংলোর বারান্দায় বসেই শোনা যায় নানা পাখির ডাক। কাছাকাছি পাহাড়ি নদীর স্বচ্ছ জলে এখনও দেখা মেলে ছোট-বড় দেশি মাছের। বিকেলের দিকে নদীর ধারে কিংবা বনবাংলোর পাশের জলাশয়ে পাখিদের আনাগোনা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে।
শরতের শুরুতে ডুয়ার্সের আবহাওয়ায় হালকা শীতের আমেজও অনুভূত হয়। ভোরবেলা কুয়াশার চাদরে মোড়া জঙ্গল, দূরে পাহাড়ের রেখা আর নদীর কলকল ধ্বনি যেন অন্য এক পৃথিবীর স্বাদ দেয়। এখান থেকেই খুব সহজে পৌঁছে যাওয়া যায় কালিম্পং, দার্জিলিং কিংবা সিকিম সীমান্তের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। ভুটানের ফুন্টশোলিংও রয়েছে অল্প দূরত্বে, যা ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বনবাংলোর বুকিং চালু হবে। পর্যটকদের বন্যপ্রাণীর ছবি বা ভিডিও তুলতে গিয়ে তাদের উত্ত্যক্ত না করার আবেদনও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বন দপ্তর।

Comments :0

Login to leave a comment