Car Plunges Into Teesta River

গ্যাংটক থেকে ফেরার পথে তিস্তা নদীতে গাড়ি, উদ্ধার ৪ জনের দেহ

রাজ্য

গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি আসার পথে শুক্রবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ পরিবারের চার সদস্যের দেহ উদ্ধার করা হলো তিস্তা নদী থেকে। রবিবার সকালে গাড়ি সহ পরিবারের চারজনের দেহ উদ্ধার হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে মৃতদের নাম সব্য নিউপানে(২৭), স্মরিকা নিউপানে(২৯), টিকা মায়া দাহাল(৩১), দিত্য ছেত্রী(৫)। দেহগুলি উদ্ধারের পর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সিকিমের ওই পরিবারটি গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়িতে এসেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সিকিমের পরিবারটি শুক্রবার একটি কালো রঙের টাটা নেক্সন গাড়িতে চিকিৎসারত আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়িতে আসছিলেন। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আসার সময় বিকেল নাগাদ রোম্বি ও বাঘপুলের মাঝে ভেলাবাড়ি এলাকায় ওই চারজনের সাথে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খবর পুলিশ সূত্রে। এরপরই  থেকেই তাদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাদের মোবাইল সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝর্ণা ফুলেফেঁপে ওঠে এবং উপর থেকে নেমে আসা ধসের কবলে পড়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তার খাদে তলিয়ে যায়। শনিবার দিনভর তল্লাশি অভিযানের পর গাড়িটির কিছু অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কোন দেহ মেলেনি। আত্মীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও সিকিম প্রশাসনের সহায়তায় যৌথ তল্লাশি শুরু করে এনডিআরএফ টিম। তল্লাশির শুরুতেই নদীর পাড় থেকে গাড়ির ব্যাটারি ও কিছু ভাঙা অংশ উদ্ধার হওয়ায় আশঙ্কা আরও জোরালো হয়। রবিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে তিস্তা নদী থেকে দুর্ঘটনার মুখে পড়া গাড়িটি এবং গাড়ির ভেতরে আটকে থাকা পরিবারের চার সদস্যের দেহ উদ্ধার করা হয়৷ ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় রঞ্জনের নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযানে নামেন এনডিআরএফ জওয়ানরা। এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কমান্ডান্ট অজয় কুমার জানান, ‘‘গতকাল থেকে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। রাতে অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। সকালে ডুবুরিদের নামানো হয়। কালীবাড়ির সামনে গাড়ির মধ্যে থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment