Dhupguri

১৫টি বড় বাণিজ্যিক সংস্থাকে নোটিশ ধূপগুড়ি মহকুমা প্রশাসনের

জেলা

শহরের বুকে গজিয়ে ওঠা একাধিক বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনের বৈধতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল ধূপগুড়ি মহকুমা প্রশাসন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা বা সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন করে যেসব বিপণন সংস্থা ব্যবসা চালাচ্ছে, তাদের রাশ টানতেই এই তৎপরতা। প্রাথমিক পদক্ষেপে মহকুমা প্রশাসন শহরের ১৫টি বড় বাণিজ্যিক সংস্থাকে ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভবন গুলির সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ি শহরের একাধিক বহুতল ভবনে বড় বড় বিপণন সংস্থা বা শপিং মল পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এই ভবনগুলির বৈধতা এবং অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেইসব ভবনের অনুমোদিত নকশা, পৌরসভার খাজনা প্রদানের রসিদ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ফায়ার লাইসেন্স’-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে এই সমস্ত নথিপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে মহকুমা শাসকের দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরের একাংশে বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘আবাসিক ভবন’ হিসেবে নকশা পাশ করানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই নিয়ম ভেঙে বহুতলটিকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করে বড় বড় সংস্থাকে মোটা টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রতারণা এবং নিয়মের কারচুপি রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। প্রথম দফায় এরকম ১৫টি ভবনকে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো হলেও, এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
মহকুমা প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা স্পষ্ট জানিয়েছেন,​“শহরের নিয়মকানুন ও সুরক্ষাবিধি মেনে যাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়,তার ওপর আমরা বিশেষ জোর দিচ্ছি। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫টি সংস্থার কাছে তাদের ভবনের সমস্ত বৈধ নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্ক্রুটিনি বা নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া এখানেই থেমে থাকবে না। পর্যায়ক্রমে আগামীদিনে এই অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে।”
প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে স্বাভাবিক ভাবেই শহরের বেআইনি নির্মাণকারী ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী ব্যবসায়ী মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।সাধারণ মানুষের মহলে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে, কারণ ধূপগুড়িতে যত্রতত্র ফায়ার লাইসেন্সহীন বাণিজ্যিক ভবন গড়ে ওঠায় বড়সড় বিপদের আশঙ্কা থাবা বসাচ্ছিল।

Comments :0

Login to leave a comment