Md Salim on Lahek Ali at Baruipur

আসল দোষীদের ধরতে হবে, প্রতিবাদীদের আটকে রেখে প্রতিবাদ দমন করা যাবে না: সেলিম

রাজ্য জেলা

শনিবার বারুইপুরে মিছিলে মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, রবীন দেব সহ পার্টি নেতৃবৃন্দ।

প্রতীম দে: বারুইপুর

ভয় দেখিয়ে মামলা দিয়ে বামপন্থী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যায় না। লাহেক আলির মুক্তির দাবিতে বারুইপুরের মিছিল ফের একবার এই কথাকে সত্য প্রমাণ করলো।
শনিবার বারুইপুরের সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে লাহেক আলির মুক্তির দাবিতে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। মিছিলে ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী, রাজ্য কমিটির সদস্য রাহুল ঘোষ, শতরূপ ঘোষ, প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা রবীন দেব সহ নেতৃবৃন্দ।
মিছিলে কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ বাধ্য হয় গাড়ি বন্ধ করে দিতে। গোটা রাস্তার দখল নেন সিপিআই(এম) কর্মীরা। 
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় সেলিম বলেন, 'আজ ভেবেছিলাম লাহেককে নিয়ে আমরা মিছিল করবো। ওকে জেল হেপাজত দিয়েছে। সেদিনও বারুইপুরের ঘটনার অভিযোগ দায়ের পর পুলিশ কিছু করেনি। লাহেক সত্যি কথা বলেছিল, তাই ওকে জেলে পুরেছে। যারা প্রতিবাদ করেছিল তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেছে।’’
সেলিম বলেন, ‘‘আগের সরকার আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আজ সেই সরকার নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘অভয়া কাণ্ডে সঞ্জয়কে সামনে রেখে আন্দোলন দমাতে চেয়েছিল। এখানেও আসল দোষীকে আড়াল করা হচ্ছে।
পৃথিবীতে কোন ফ্যাসিস্ট মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিবাদীদের আটকাতে পারেনি।’’
সেলিমের কথায়, ‘‘শুভেন্দু বলছে সকালে ধরা আর বিকেলে খরচ করে দেবে। এনকাউন্টার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আসল দোষী যারা তাদের ধরতে হবে। প্রতিবাদীদের কোন হিন্দু-মুসলিম পরিচয় ছিল না। বিজেপি এদের মধ্যে ভাগ করেছে ধর্মের নামে। পুলিশ প্রথমে বিজেপি’র কথায় অপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিল। আমাদের দাবি আসল যারা দোষী তাদের ধরতে হবে, তাদের শাস্তি দিতে হবে।’’
সেলিম বলেন, ‘‘বারুইপুরের তদন্ত যদি ঠিক না হয়, দোষীদের যদি ধরা না হয়, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে আন্দোলন তীব্র হবে রাজ্য জুড়ে।’’
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সম্পর্কে সেলিম বলেন, ‘‘ওরা ভেবে ছিল সোনাম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু এরা পারেনি। চাপের মুখে পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছে। বিজেপি মন্ত্রীদের নামের আগে ‘প্রাক্তন’ লেখা শুরু হলো।’’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পর থেকে বারুইপুর অঞ্চলে বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের ওপর বারবার আক্রমণ নামিয়ে এনেছিল তৃণমূল। শহীদ হয়েছিলেন সীতাকুণ্ড গ্রামের ছাত্র নেতা সাইফুদ্দিন মোল্লা। কয়েক বছর বাদে বারুইপুরের এই দৃপ্ত মিছিল জেলার সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের বাড়তি উৎসাহ দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

Comments :0

Login to leave a comment