নতুনপাতা
মণ্ডা মিঠাই
শিক্ষকরা যদি নিজের সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে সমাজ গঠনের চেষ্টা করেন
পূর্বায়ণ ময়রা
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
শিক্ষকতা এক মহান পেশা। একজন শিক্ষক পারেন সুন্দর এক সমাজ গঠন করতে। শিক্ষক পারেন সমাজে অন্যায় সৃষ্টির আগেই তাকে প্রতিহত করতে। শিক্ষক দিবস সেই মহান শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। যারা আমাদের সমাজকে সর্বাঙ্গিক সুন্দর করে তোলার জন্য জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে নিরন্তর সাধনা করে চলেছেন। ১৯৬২ সালে ডক্টর রাধাকৃষ্ণান ভারতের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তার জন্মদিন বিশেষ ভাবে উদযাপনের অনুমতি চাওয়া হয় তাঁর কাছে। সে সময় তিনি জানান ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্মদিন উদযাপনের পরিবর্তে দেশের সমস্ত শিক্ষককে সম্মান জানানো হলে তিনি বেশি আনন্দিত হবেন। এরপর ১৯৬২ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেক বছর এই বিশেষ তারিখটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।কিন্তু শিক্ষককেও সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। একটা কথা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, শিক্ষকের স্থান ঈশ্বরের থেকেও উপরে। যদি শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে সমাজটা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ঐ যে একটা কথা আছে মহান ক্ষমতার সঙ্গে আসে মহান দায়িত্ব। তাকে হতে হবে শিক্ষার্থীর কাছে বন্ধু দার্শনিক এবং অভিভাবক । শিক্ষককে সবার আগে ছাত্রকে কেবলমাত্র ছাত্র হিসেবে নয় বরং নিজের সন্তান হিসেবে দেখতে হবে। শিক্ষককে কেবলমাত্র পুথিগত বিদ্যা দিলে চলবেনা,
বাস্তব জীবনে জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা শিক্ষকের প্রথম দায়িত্ব। শিক্ষককে সর্বদা শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে মুখস্ত বিদ্যা কেবলমাত্র তথ্য ভান্ডার বৃদ্ধি করে কিন্তু কোন সচেতনতা সৃষ্টি করতে সেই বিদ্যা সম্পূর্ণ রূপে অক্ষম। পাঠ্য বিষয়কে কেবলমাত্র কিছু নম্বরের জন্য নয় বরং নতুন কিছু জানার জন্য উৎসাহে সঙ্গে অধ্যায়ন করতে হবে । তবেই বর্তমানে শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ সময়ে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করতে সক্ষম হবে। ভারতবর্ষে আজও নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে যা আমাদের সমাজের অবনতির কারণ। এর একমাত্র সমাধান বিজ্ঞানমনস্কতা। কেবল মাত্র পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়া জন্য সিলেবাস অনুসারে আদের পড়ানো নয় বিজ্ঞানের যুক্তির মাধ্যমে কুসংস্কারের প্রাচীর চিরতরে ভূপতিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের ভেতর লুক্কায়িত আছে সেই জ্যোতি যা সমাজের বিভিন্ন অন্ধকার দিক কে আলোকিত করতে সক্ষম তাই সেই আলো ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ রূপে শিক্ষকদের। মান সবচেয়ে বেশি জ্ঞান আহরণ করতে সক্ষম নিজের অন্তর থেকে। মানুষ প্রশ্ন করতে জানতো বলেই আজ মানুষ এতটা উন্নতি করেছে। অজানা কে জেনেছে। সুতরাং নতুন প্রজন্মকেও প্রশ্ন করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ছাত্রদের ভাবার অবসর দিতে হবে, তারা কোন প্রশ্ন করলে উৎসাহের সাথে তাদের সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ছাত্রটির কোন ভাবেই যেন প্রশ্ন করার প্রতি অনীহার সৃষ্টি না হয়। আরেকটি বিষয় বলতে চাই যে শিক্ষকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এমনভাবে তৈরি করা যাতে শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ যাতে সম্ভবপর হয় । একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হতে শেখাবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শেখাবে মানুষকে সম্মান করা এবং নিয়মানুবর্তিতা। একজন শিক্ষক কখনোই কোন ছাত্রকে তার দুর্বল বিষয় নিয়ে শ্রেণী কক্ষের সামনে প্রহসনের প্রস্তু হিসেবে উপস্থাপিত করবে না বরং তার দুর্বল বিষয়টিকে যত্ন সহকারে উন্নত করার চেষ্টা করবেন। আমাদের দেশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেছে। আজ আমাদের সমাজের দিকে তাকালে বিভিন্ন অপ্রীতিকর সত্য আমাদের সামনে উত্থাপিত হবে। কিন্তু এই সকল অপ্রীতিকর সত্যের সম্মুখীন হতে হবে।আমাকে সমাজকে সর্বাঙ্গিকভাবে সুন্দর করে তুলতে হবে। শিক্ষকরা যদি নিজের সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে সমাজ গঠনের চেষ্টা করেন তাহলে একদিন না একদিন আমাদের সমাজ সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হয়ে উঠবে। আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষকরা প্রত্যেকে যোদ্ধা। কেবলমাত্র অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই তো যুদ্ধ হয় না। সমাজের নিম্ন মানসিকতা রুপী অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে নিরন্তর সংঘর্ষ করে চলেছেন শিক্ষক সমাজ। তাদের প্রতি যত সম্মান জ্ঞাপন করা হোক না কেন সমস্তটাই অতি নগন্য তাদের অবদানের সামনে। তাদের দৈবীক চরিত্র সম্পর্কে নিজের লেখনির মাধ্যমে উপস্থাপিত করব এমন আমার ক্ষমতা নেই। তবুও মনের অন্তস্থল থেকে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।
Comments :0