সামাজিক বিচারে বঞ্চিত অংশের বরাদ্দও খরচ করেনি রাজ্যের তৃণমূল সরকার। সেচ থেকে পানীয় জল সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতেও দেখা যাচ্ছে একই ছবি। রাজ্যের পেশ করা বাজেট নথিতেই বেরিয়ে আসছে সেই তথ্য।
‘এক নজরে বাজেট’ নথি জানাচ্ছে তফসিলি জাতি, আদিবাসী সহ অনগ্রসর অংশের উন্নয়নের খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮ হাজার ২১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে সেক্ষত্রে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে যে টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে, তা আগের বারের তুলনায় অনেকটাই কম, মাত্র ৬ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার বাজেট বিবৃতিতে অর্থ দপ্তরের রাষ্ট্র মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘তফসিলি জাতি উন্নয়নের জন্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প 'জয় জোহার' এবং ‘তফসিলি বন্ধু'-র মাধ্যমে ১৪.৬৮ লক্ষ্য এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ের মানুষকে ৯ হাজার ১০৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।‘
তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ টাকার পরিমান ও গত বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। তফসিলি জাতি ও আদিবাসী উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৬ হজার ৪৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। এবার বরাদ্দ ৫৬৪১ কোটি টাকা।
গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই দৃশ্য উঠে এসেছে বাজেটে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এই ক্ষেত্রে। তবে খরচ করা হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।
সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয় ৫ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। খরচ করা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। বর্তমানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা বৃদ্ধি না করে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫৮কোটি টাকা।
তেমনি সামাজিক উন্নয়ন ও পুষ্টির ক্ষেত্রে গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। তার তুলনায় খরচ হয়েছে অনেকটাই বেশি, ৫৩ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। তারপরেও, বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ হিসাবে ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। একই অবস্থা বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও। গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৪ হাজার ০৭৭কোটি টাকা। খরচের পরিমান অনেকটাই বেশি ৬ হাজার ৭৫২কোটি টাকা। তবে বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ধার্য করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
পাশাপাশি, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি, আবাসন এবং নগর উন্নয়ন খাতে সব মিলিয়ে গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৪৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। খরচ করা হয় মাত্র ৩৮ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা।
বহুক্ষেত্রেই বরাদ্দ যা ধরা হয়েছিল তা প্রয়োজন থাকলেও সেই খরচ করা হয়নি কেন করা হয়নি সেই বিষয়ে সরকার কোন বাক্যব্যয় করা হয়নি সরকারে তরফে। পাশাপাশি যে সমস্ত থাকতে গত অর্থবর্ষে বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ হওয়ার পরেও বর্তমান বাজেটে কেন কম অর্থ ধার্য করা হয়েছে সেই ব্যাপারেও নিশ্চুপ সরকার।
নগদ হস্তান্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে সরাসরি টাকা দেওয়া বাড়ানোর ঘোষণা করেছে রাজ্য। কিন্তু অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর প্রধান ভরসা সরকারি ব্যয় সব মিলিয়ে বাড়ছে সামান্যই। বরং কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দই খরচ হচ্ছে না। ফলে মোটের ওপর রোজগার, কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকছেই। তার প্রতিফলনও পড়ছে। যেমন নগদ ভাতা ঘোষণার পরও স্কুলছুটের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। রাজ্যও মাথাপিছু আয়ে দেশের মধ্যে নিচের দিকেই।
BUDJET SC ST
তফসিলি জাতি, আদিবাসী উন্নয়নের টাকাও খরচ করেনি রাজ্য, দেখাচ্ছে বাজেটই
×
Comments :0