যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে ছাত্র যুবরা। দিল্লিতে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে এবং ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শিলিগুড়িতে ছাত্রযুবদের মিছিল হয়েছে। ডিওয়াইএফআই ও এসএফআই দার্জিলিঙ জেলা কমিটির ডাকে শুক্রবার বিকেলে শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কের সামনে থেকে সংহতি মিছিল শুরু হয়। কোর্ট মোড়, হাসমিচক, হয়ে হিলকার্ট রোড ধরে এগিয়ে গিয়ে সেবক মোড় পেরিয়ে এয়ারভিউ মোড়ে এসে পৌঁছায় মিছিল। এরপর এয়ারভিউ মোড় সংলগ্ন বর্ধমান রোডে ফ্লাইওভারের সামনে বেশ কিছু সময় ছাত্র যুবদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মিছিলের সমাপ্তি হয়। মিছিলে ছিলেন সাগর শর্মা, শাশ্বতী সাহা, অভিজিৎ চন্দ, বুলেট সিং, অঙ্কিত দে, তন্ময় অধিকারী, সম্রাট সাহা সহ অন্যান্যরা।
এদিন রায়গঞ্জ ঘড়ি মোড়ে প্রতিবাদী মানুষের ঢল নামে। ছাত্র ছাত্রীদের দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ। প্রশ্ন পত্রের ফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক। বক্তব্য রাখেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অভিমুন্য পাট্টাদার।
দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশী বর্বরতাকে ধিক্কার জানিয়ে শুক্রবার বর্ধমানে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদী মিছিল ও অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এদিন ছাত্র মিছিল থেকে একটাই স্লোগান উঠে আসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই। মিছিল এদিন বিবেকানন্দ কলেজ থেকে শুরু হবার মুখেই এভিবিপি’র নামে কিছু গুন্ডা অছাত্র মিছিল বাধা দেবার চেষ্টা করে কিন্তু ছাত্রদের প্রতিবাদী চেহারা দেখে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ইছাপুর নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে মিছিল ইছাপুর ষ্টোরবাজারের সামনে থেকে শুরু হয়ে মানিকতলা গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন গনতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জী, সুবীর মৌলিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
দিল্লী পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণের প্রতিবাদে এবং যেসব পুলিশ এর জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এসএফআই রামপুরহাট লোকাল কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার অবস্থান বিক্ষোভ হয় রামপুরহাট ডাকবাংলো মোড়ে। ছাত্রদের দাবি একটাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই। সিস্টেমের পরিবর্তন চাই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর কোন দেশের সভ্য সরকার, পুলিশ এই নির্লজ্জ, বর্বর আক্রমন করে ? ৭০ টির বেশি প্রশ্ন ফাঁস। ২০ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। বিজেপি সরকারের পুলিশ এরপরেও এত নৃশংস।গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলা যদি অপরাধ হয়, তবে সেই অপরাধ বারবার হবে। বুকের রক্ত আর বারুদের ধোঁয়া দিয়ে কোনোদিন ছাত্র ও তরুণদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
এদিন মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্র মুর্তির পাদদেশ থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত চার কিমি পথে বিক্ষোভ মিছিলে নজর কাড়ে। জেলার শহরে যুব ছাত্র সমাজের মেজাজ থেকে উঠে আসে সিস্টেম বদলানোর বার্তা। দাবি ওঠে পেপার লিকসহ সমস্ত শিক্ষাদুর্নীতির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। বিক্ষোভ মিছিল থেকে দিল্লিতে চলমান ছাত্রদের আন্দোলনের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণ, লাঠি চার্যের ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত সহ দোষীদের শাস্তির দাবি ওঠে।
Comments :0