‘বুলডোজার ন্যায়ের’ নামে উত্তর প্রদেশে যোগী সরকারের ‘তান্ডব’ অব্যাহত। যোগী সরকার বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ করলেও, বাড়ির মালিকদের সরকারি নোটিশের বিরুদ্ধে সওয়াল করার সময় দেওয়া হয়নি অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের। সোমবার বারাণসীর ডালমন্ডি এলাকায় রাস্তা চওড়া করার জন্য একটি বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে এক ব্যক্তি তাঁর দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ‘‘আমাদের বাড়ি জরাজীর্ণ নয়। প্রশাসন আমাদের বোকা বানাতে পারবে না। যদি বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। সরকার জরাজীর্ণ দাবি করে ক্ষতিপূরণ এড়াতে চাইছে। এই কথা বলে তিনি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন। এবং আগুনে ঝাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও পুলিশ আগুন নিভিয়ে দেয়।
আধিকারিকদের বক্তব্য, বারাণসীর ডাল মান্ডিতে ২১টি জরাজীর্ণ বাড়ি ও দোকানের মধ্যে ১৮টি প্রশাসন ভেঙে ফেলে। বুলডোজার ও হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। বুলডোজার হামলার প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের কাছে ১০ দিন সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। পুলিশ প্রতিবাদী আটজনকে আটক করে। তাদের টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়, এমনকি কয়েকজনকে মারধরও করে বলে অভিযোগ। এলাকায় ব্যারিকেড করে রেখেছে বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, চলছে ড্রোন দিয়ে নজরদারি। পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে ডাল মান্ডির বাসিন্দা রহমত আলীকে আটক করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ভাই নওশাদ আলীকে আটক করা হয়।
স্থানীয় দোকানদাররা বক্তব্য পর্যাপ্ত নোটিশ এবং সময় ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য ১০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। কেবল রাস্তা চওড়া করার জন্য আমাদের জীবন নষ্ট করছে প্রশাসন। আমরা আমাদের জীবিকা হারিয়ে ফেলেছি। তাদের অভিযোগ প্রশাসন সময়মতো নোটিশ দেয়নি বা পুনর্বাসনের জন্য কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনাও প্রকাশ করেনি।
দশাশ্বমেধের এসিপি ডঃ অতুল অঞ্জন বলেন, ডাল মান্ডিতে রাস্তা চওড়ার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং জরাজীর্ণ ঘোষিত বাড়িগুলি পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের অভিযানটি বিশাল, তাই সতর্কতার সাথে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলেছেন তারা আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তবুও প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে অনড়। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের পরিবারের সাথেই মরব। আমার দুই বছরের ছেলে মুম্বাইতে হৃদরোগের চিকিৎসাধীন, এবং আমার কিডনিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা কীভাবে খরচ বহন করব?" তিনি অভিযোগ করেন যে পদক্ষেপের সময় তার সাথে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছিল।
Buldozer Varanasi
বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে বাড়ি, বারাণসীতে চরম উত্তেজনা
×
Comments :0