মণ্ডা মিঠাই
নতুনপাতা
আরাবল্লীর আর্তনাদ
সৌম্যদীপ জানা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
রাজস্থান ও গুজরাট জুড়ে বিস্তৃত প্রাচীন আরাবল্লী পর্বতশ্রেণীর ক্রমবর্ধমান ধ্বংস আজ এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে চলেছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক রায় অনুযায়ী, আরাবল্লী পর্বতশ্রেণীর যে অংশগুলির উচ্চতা ১০০ মিটারের কম, সেগুলি খননের আওতায় আনা যেতে পারে। আইনগত ব্যাখ্যার স্তরে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি থাকলেও পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে এর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর ও সুদূরপ্রসারী।
আরাবল্লী শুধুমাত্র একটি পাহাড়ি অঞ্চল নয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম পর্বতশ্রেণীগুলির একটি, যার ইতিহাস প্রায় ১৫০ কোটি বছরের। পশ্চিম ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে, মরুকরণ প্রতিরোধে, ভূগর্ভস্থ জলস্তর বজায় রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই পর্বতশ্রেণীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে থার মরুভূমির বিস্তার রোধে আরাবল্লীর প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করার বিষয়টি বহু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্বীকৃত।
কিন্তু বাস্তবতা হল, আরাবল্লীর একটি বড় অংশই ১০০ মিটারের নিচে অবস্থিত। ফলে এই রায় কার্যকর হলে খননের নামে পর্বতশ্রেণীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খনন মানে কেবল পাথর তোলা নয়—এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বন উজাড়, ধূলিকণার দূষণ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস এবং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু ভারসাম্যের অবনতি।
উন্নয়নের যুক্তিতে প্রকৃতির সঙ্গে আপসের এই প্রবণতা নতুন নয়। কিন্তু বারবার প্রমাণিত হয়েছে—প্রকৃতিকে ধ্বংস করে যে উন্নয়ন, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করে তোলে। আজ আরাবল্লী ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী দিনে রাজস্থান, হরিয়ানা ও দিল্লি-সংলগ্ন অঞ্চলে জলসংকট, তাপপ্রবাহ ও মরুকরণের সমস্যা আরও প্রকট হবে।
নতুন বছরের প্রথম দিনে তাই শুধু উৎসব নয়, আত্মপর্যালোচনারও সময়। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কি শুধুই নীতিনির্ধারকদের, নাকি আমাদের সকলের? আরাবল্লী রক্ষার প্রশ্নটি কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়—এটি সমগ্র দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
প্রয়োজন অবিলম্বে এই রায়ের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে পুনর্বিবেচনা, কঠোর নজরদারি এবং খনন কার্যক্রমে সুস্পষ্ট সীমারেখা টানা। একই সঙ্গে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও নাগরিক প্রতিবাদ।
নতুন বছর যদি সত্যিই ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি হয়, তবে সেই ভবিষ্যৎকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। আরাবল্লীকে বাঁচানো মানে কেবল একটি পর্বতশ্রেণীকে বাঁচানো নয়—এ মানে প্রকৃতি, জীবন এবং আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা।
দশম শ্রেণী, কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ উত্তর ২৪ পরগনা
ডাঙ্গাপাড়া, রহড়া
Comments :0