ফের বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেট। রবিবার গভীর রাতে বাজার চত্বরে পরপর তিনটি পৃথক স্থানে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে অন্তত ১৫টি অস্থায়ী দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। দমকলের তিনটি ইঞ্জিনের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। একই বাজারে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নাশকতার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে রেগুলেটেড মার্কেটে ঢোকার মুখে লঙ্কা হাটি সংলগ্ন এলাকায় প্রথমে আগুন দেখতে পান পথচারীরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন আশপাশের কাপড় ও মুদি দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী দোকান হওয়ায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। শুধু লঙ্কা হাটি নয়, একই সময়ে ধান হাটি এলাকার আরও দু’টি জায়গাতেও আগুনের ফুলকি দেখা যায়, যা গোটা ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং পরে আরও দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বাজার চত্বরে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের জট এবং শর্ট সার্কিটের আশঙ্কায় আগুন নেভানোর কাজে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয় দমকল কর্মীদের। স্থানীয় বাসিন্দা বৈদ্য চন্দ্র বলেন, “চোখের সামনে একের পর এক দোকান পুড়ে গেল, কিছুই করার ছিল না।” অপর এক বাসিন্দা উৎপল বসাকের প্রশ্ন, “একসঙ্গে তিন জায়গায় আগুন লাগা কি শুধুই দুর্ঘটনা? তদন্ত ছাড়া সত্য জানা যাবে না।"
দমকল কেন্দ্রের লিডার বিশ্বদেব রায় জানান, “খবর পেয়েই দ্রুত কাজ শুরু করা হয়। তবে বিদ্যুতের তারের সমস্যার জন্য কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের সঠিক কারণ তদন্তের পরই জানা যাবে।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। মার্চ ২০২৩-এ দোলের সময় শর্ট সার্কিটে ১৭টি দোকান ও গুদাম পুড়ে যায়। অক্টোবর ২০২৩-এ লক্ষ্মীপুজোর আগে আগুনে ভস্মীভূত হয় ১২টি দোকান। এর আগে মার্চ ২০২২-এ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে, ডিসেম্বর ২০২০-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫০টি দোকান এবং জানুয়ারি ২০১৮-এ নাশকতার অভিযোগসহ বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও বাজারে নেই স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নেই পর্যাপ্ত আলো বা পাহারাদার। সরকারি বাজার হওয়া সত্ত্বেও দেখভালের চরম গাফিলতি চোখে পড়ছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—যাঁরা সরকারি বেতন নেন, তাঁরা কেন দায়িত্ব নেন না? অবিলম্বে দায়ীদের জবাবদিহি ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি উঠছে ধূপগুড়ি জুড়ে।
Fire at Dhupguri
ধূপগুড়ি সুপার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত প্রায় ১৫টি দোকান
×
Comments :0