Mostari Banu

ভগবানগোলা থেকে সুপ্রিম কোর্টে, পাশে থেকেছে সিপিআই(এম), বললেন মোস্তারি বানু

জাতীয়

এ কে গোপালন ভবনে নীলোৎপল বসু, মোস্তারি বানু, সব্যসাচী চ্যাটার্জি।

নিজে এসআইআর হেনস্তার শিকার। ২০০২-র তালিকায় নাম থাকলেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে তিনিই প্রথম আবেদন জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সোমবার শুনানির পর নয়াদিল্লিতে একে গোপালন ভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন মুর্শিদাবাদের মোস্তারি বানু।
সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য নীলোৎপল বসু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুরলীধরন, আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি এবং সায়ন ব্যানার্জি।
সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য নীলোৎপল বসু বলেন, সিপিআই(এম) বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় থেকেই এই প্রক্রিয়ার ধারণা, পরিকল্পনা এবং প্রয়োগ পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। সংবিধান অনুযায়ী ভোট দিতে হলে নাগরিক হওয়া জরুরি। কিন্তু নাগরিকত্বের বিচার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টেও চলছে মামলা। সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন মামলা হয়েছে। আমরাও করেছি।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে। প্রথমে আমরা শুনেছি ম্যাপিং। তারপর এসেছে লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি।

কিন্তু তার মানে কি, কেনই বা করা হচ্ছে সঠিক এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন দেয়নি। হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বিপুল অংশের মানুষ। গরিব, প্রান্তিক সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে সমস্যার মুখে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম পিটিশন জমা করেন মোস্তারি বানু।
এদিন মুস্তারি বানু বলেন, "মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার বর্ডার লাগোয়া গ্রাম থেকে এই সুপ্রিম কোর্টে এসেছি। গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ সালে অইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি, সায়ন ব্যানার্জি, সিপিআই(এম) এবং আমার পরিবারের সহযোগিতায় এই কেস করি। এসআইআর নিয়ে দেশের মানুষ নাজেহাল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হয়রান হয়ে যাচ্ছে। বলা হয়েছিল ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে যাদের নাম থাকবে তারা বৈধ ভোটার। তবে, যাদের ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে। আমার ও নাম ছিল কিন্তু আমিও এই হয়রানির স্বীকার। তখন আমি নিজে থেকেই পার্টির সহযোগিতা নিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়ার সিদ্ধান্ত নেই। মুখ্যমন্ত্রী চাইলে তো এই বিষয়ে শুরুর সময় ব্যবস্থা নিতে পারতেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এসআইআর মামলার জন্য সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন। তিনি বলেন যে তিনি এসআইআর’র বিষয়ে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন বা তিনি প্রথম পিটিশন দাখিল করেছেন। কিন্তু, আমি মোস্তারি বানু আমিই প্রথম পিটিশান দাখিল করি।"
আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি বলেন, আমাদের পিটিশনের মূল বক্তব্য এই যে এনুমারেশন ফর্ম চালু করাই অসাংবিধানিক। মানুষের কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র প্রমান করার জন্য যে তাঁরা নাগরিক নন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল অংশ হিয়ারিং নোটিশ পাচ্ছেন। কারণ ইলেকশন কমিশন নাগরিক নয় মনে করে কারণেই তাদেরকে এই হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠাচ্ছে। এই বিষয়টি নজর আনতে চেয়েছিলাম। হাওড়া জেলার মধ্য হাওড়া বিধানসভার মোল্লাপাড়া এবং গোলাম মহম্মদ সর্দার লেনে এমন বহু নোটিশ পাঠানো হয়েছে যেখানে অভিযোগকারীর নামের উল্লেখ নেই অথবা অভিযোগকারী নামের জায়গায় এক্স লেখা রয়েছে। এবং ঠিকানা দেয়া হয়েছে ৫/১ওয়েস্ট বেঙ্গল। 
নির্বাচনবিধির নির্দেশ অনুযায়ী বলা হয়েছে যে অভিযোগকারীর পরিচয় জানতে হবে এবং হিয়ারিং এর সময় অভিযোগকারীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। অভিযোগকারী পরিচয় গোপন করে কখনোই নাম বাদ দেওয়া যাবে না। কিন্তু  অভিযোগকারীর সঠিক পরিচয় না দিয়ে একাধিক নোটিশ পাঠানো হচ্ছে যা আমরা আজকে বিচারপতির সামনে পেশ করেছি।

Comments :0

Login to leave a comment