রাস্তা ধরে যখন পেরোতেন তখন চারপাশজুড়ে ‘যুদ্ধকালীন’ তাপ ছড়াত। সাইরেনের তীব্র আওয়াজ তটস্থ করত চারিদিক। সামনে পেছনে একাধিক গাড়ি করে ছুটতেন দশ সশস্ত্র মহিলা ও পুরুষ পুলিশ। কমকরে দশজনের পুলিশ ঘিরে রাখত কনভয়। থাকত বোমা সনাক্তকারী যন্ত্রও। শুধু রাস্তায় বেরোলে নিরাপত্তা বেষ্টনি সংবলিত কনভয়ই নয়, বাসভবনও ঘিরে থাকল পুলিশের ‘কড়া’ নজর। উধাও হয়েছে সব। ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তায় দিন কাটানো তৃণমূলের বীরভূম জেলার দোর্দন্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মন্ডলের জন্য এখন থেকে বরাদ্দ হয়েছে স্রেফ ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী।
রাজ্যে সরকার বদলের পর তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা বহর নিয়ে পর্যালোচনার পর পরবর্তিত নির্দেশ নেমে এসেছে জেলা পুলিশের কাছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘ক্যাটাগোরাইজড নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্তা পরিকল্পিত হয় ডাইরেক্টরেট থেকে। সেখান থেকেই নয়া নির্দেশ পেয়ে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।’’ শুধু অনুব্রতই নন, তালিকায় রয়েছে জেলা পরিষদের বর্তমান সভাধিপতি কাজল সেখও। তাঁরও বহর ছিল একই রক। তিনিও ছিলেন ‘ওয়াই প্লাস’ নিরাপত্তার আওতায়। তাঁর লম্বা কনভয়ের সাথে তাঁর অনুগতদের গাড়িও ছুটত কনভয়ে। তাঁও তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তিনি দুই বা তিনজন নিরাপত্তারক্ষী পাবেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বীরভূমে তৃণমূলের প্রায় এক ডজন নেতার নিরাপত্তায় রদবদল হয়েছে। তৃণমূল আমলে নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে ঘোরার নতুন সংস্কৃতির আমদানি হয়েছিল। জেলা তৃণমূলেরই এক শীর্ষনেতা কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, ‘‘নিরাপত্তা রক্ষী না থাকলে যেন নিজেকে ঠিক নেতা নেতা মনে হয় না, এই মনোভাবে আসক্ত হয়েছিলেন আমাদের দলের বহু নেতাই।’’ সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাঁটছাটে আরো দুই উল্লেখযোগ্য নাম রাজ্যের প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস ব্যানার্জী ও প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব জানিয়েছেন, ‘‘নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমানো হয়েছে।’’ জানা গেছে, কাজল শেখের কাছে এখন থেকে মাত্র ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী থাকছে। কারন তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতির তথা হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। একই ভাবে রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, প্রাক্তন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে ১ জন করে দেহরক্ষী থাকবে মাত্র। জেলায় তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের কাছেও ১ জন করে দেহরক্ষী থাকছে। জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা যিনি আবার জেলা পরিষদের ‘মেন্টর’ পদে ছিলেন সেই লাভপুর প্রাক্তন বিধায়ক রানা সিংহ হেরেছেন ভোটে। তাঁর জন্য কোনও নিরাপত্তা রক্ষীই বরাদ্দ হচ্ছে না। শুধু তাই নয় বিগত ১০বছর বীরভূমে তৃণমূলের প্রত্যেক ব্লক সভাপতি থেকে কিছু কিছু অঞ্চলের সভাপতিও এক থেকে দুই জন করে দেহরক্ষী পেতেন যা কতটা নিয়ম মেনে হয়েছিল তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে।
Comments :0