যাদবপুর থেকে মেদিনীপুরে চলছে তাণ্ডব। দেশের অন্যত্রও বিজেপি, এবিভিপি নেমেছে গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আক্রমণে। চলছে প্রতিরোধও। শনিবার শিক্ষাক্ষেত্রে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির এই তাণ্ডবকে ধিক্কার জানিয়ে মিছিল হলো ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরে। পা মেলালো নাগরিক সমাজ। অংশগ্রহণ ছিল নজরকাড়া। এই মেদিনীপুর কলেজেও বেপরোয়া তাণ্ডব চালিয়েছে এবিভিপি।
মিছিলে পা মেলালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল, সিপিআই(এম) নেতা তাপস সিনহা, মেঘনাদ ভূঁইয়া, গীতা হাঁসদা সহ মেদিনীপুর কলেজের প্রাক্তনীরাও। মেদিনীপুর শহরের কলেজ মোড় রবীন্দ্র ও নেতাজী দুই মুর্তির সামনে হয় প্রতিবাদ।
সেলিম বলেন, গেরুয়া বাহিনী নতুন প্রজন্মকে ভয় করে। ওরা বিরোধিতাহীন প্রশ্নাবিহীন আনুগত্য ও ভয়ের রাজ কায়েম করে মানুষকে দাসত্বে রাখতে চায়। গত কয়েক বছর ধরে সারা দেশ আর আমাদের রাজ্যে গত তিন মাস ধরে গেরুয়া বাহিনীর তান্ডব চলছে। আসলে গত ১৫ বছর ধরে আরএসএস-র ‘দুর্গা‘ রাজ্যের সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দখলদারি চালিয়েছে। মুক্তচিন্তার, শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অধিকার হরণের চেষ্টা চালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে জনগণের রায়ে নতুন সরকার এসেছে। একটা মালিক পরিবর্তন হয়ে নতুন মালিক এসেছে। এই মালিক চিরস্থায়ী নয়। কাল যে ক্ষমতায় আজ সে নাই। আজ যে ক্ষমতায় কাল সে থাকবে না।
সেলিম বলেন, বিজেপি নির্দিষ্ট টার্গেট করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক কাঠামো ও তার পরিসরকে আক্রমণ করে। যাতে মানুষ ভয় পায়। প্রতিবাদ করার সাহস না পায়। তাই যেখানে মুক্ত চিন্তার ধারা রয়েছে, গবেষণাগার, ইতিহাস চর্চা, বিজ্ঞান চর্চা হয়, সেই শিক্ষাঙ্গনকে টার্গেট করে প্রগতিশীল চিন্তাধারাকে নষ্ট করতে হামলা চালাচ্ছে। প্রতিবাদীদের দমন করতে কখনো ‘টুকরে টুকরে গ্যাঙ‘, কখনো ‘হার্মাদ‘, কখনো শহুরে নকশাল দাগিয়ে এখন ‘দিমাগী নকশাল‘ শব্দবন্ধ ছড়াচ্ছে।
সেলিম বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আন্দোলনে বেপরোয়া লাঠিপেটা, পেলেট গুলি, বিহারে এ কে ফর্টি সেভেনে গুলি চালিয়েও দমাতে পারেনি।
মেদিনীপুর কলেজ মোড় থেকে প্রতিবাদী মিছিল শুরু হয় মেদিনীপুর শহরের রিংরোড ধরে এগিয়ে চলে। পুনরায় রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে এসে শেষ হয়। মিছিল থেকে ভয়ঙ্কর শেষের সেদিন রুখতে আসুন সবাই জোট বদ্ধ হই আহ্বান জানিয়ে সমবেত হয় শতশত মানুষ।
Comments :0