দীর্ঘসূত্রিতা নয়, দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রকৃত দোষীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সোমবার সকালে দিনহাটা পোয়াতুরকুঠি এলাকায় রহস্যজনক ভাবে খুন হয়ে যাওয়া নাবালিকার বাবা, মা সহ পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে একথাই বললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা মীনাক্ষী মুখার্জি।
বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল এই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালান। এরপর সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ এলাকার একটি পাট খেতের মধ্যে তার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
ঘটনার খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে। জানা যায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পাশাপাশি এই নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত ২৪বছর বয়সী সফিকুল শেখ কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত তার ১০দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। কোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ।
এদিন সকালে মীনাক্ষী মুখার্জী সহ সিপিআই(এম) নেতা অলকেশ দাস, প্রবীর পাল, আকিক হাসান, শুভ্রালোক দাস প্রমুখের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ছুটে যায় কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার বামনহাট পোয়াতুরকুঠি এলাকায়। এখানেই মৃত নাবালিকার পরিবার সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলেন মীনাক্ষী মুখার্জি সহ নেতৃত্বরা। পাশে থাকার বার্তা দেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মীনাক্ষী মুখার্জী বলেন, ‘ভারতবর্ষের সংবিধানে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিনতম শাস্তি রয়েছে। পক্সো আইনে কঠিনতম শাস্তি আছে। দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে, যাতে আইনের প্রতি বাকিদের ভয় থাকে। আইনকে যদি গুন্ডা, বদমাশ, ধর্ষকেরা ভয় না পায়, তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় না। ভালো মানুষ আইনকে নিজের বন্ধু বলে মনে করে, যে আমি বিপদে পড়লে আইন আমার পাশে আছে। আর খারাপ মানুষকে আইনকে ভয় পেতে হবে। ভালো মানুষ যেমন আইনকে ভরসা পাবে। আর খারাপ মানুষকে আইনকে এবং পুলিশকে ভয় পেতে হবে। আর খারাপ মানুষকে ভয় পাওয়ার সমস্ত রকমের কথা, শাস্তি, নিদান, বিধান সব আইনে আছে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতাগুলি খুব খারাপ। ধর্ষণ হয়, খুন হয়ে যায়, তারপর বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, আদালতে তারিখের পর তারিখ, এই কাগজ, ওই কাগজ, এই এফআইআর- ওই এফআইআর করে কেস ঝুলতে থাকে। কোথাও কোথাও দোষীরা জামিনও পেয়ে যায়, আবার যারা জামিন পায়, তাদের গলাতে মালাও পড়ানো হয়।’
এদিন মীনাক্ষী মুখার্জি এই গ্রামের মানুষদের বলেন, ‘আপনারাও এই পরিবারের পাশে থাকুন। আইনগত ভাবে গোটা গ্রাম মিলে এই কাজ করতে হবে, যাতে কোন ফাঁক দিয়ে অপরাধী বেরিয়ে যেতে না পারে।’ এই কাণ্ডে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক বলে এদিন দাবি তোলেন মীনাক্ষি মুখার্জি।
Coachbihar
কোচবিহারের খুন হওয়া নাবালিকার পরিবারের সাথে দেখা করলেন মীনাক্ষী সহ নেতৃত্ব
কোচবিহারের পোয়াতুরকুঠি গ্রামে মৃত নাবালিকার প্রতিবেশীদের মাঝে মীনাক্ষী মুখার্জি। ছবি- অমিত কুমার দেব
×
Comments :0