Mamata Banerjee

হাইকোর্টে মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ

রাজ্য

কলকাতা হাইকোর্টে মমতা ব্যানার্জি ঘিরে বিক্ষোভ আইনজীবীদের একাংশের। তাকে ঘিরে চোরস্লোগান দিতে থাকেন আইনজীবীরা। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আদালত চত্বর থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল নেত্রীকে।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের অভিযোগ নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকে তৃণমূলের কর্মীদের ওপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রমণ চলছে। তাদের একাধিক দপ্তর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন মমতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের দিকে আঙুল তুলে বলেন পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে না। তাদের অভিযোগ জানানো হলে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
পুলিশের পক্ষ থেকে আইনজীবী জানান যেই অভিযোগ করা হচ্ছে তা অস্পষ্ট। যেই তালিকা দেওয়া হচ্ছে তাতে কোন স্পষ্টতা নেই। যার ফলে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

মুর্শিদাবাদে লেনিন মূর্তি ও হগ মার্কেটে দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়েছে এদিন।

উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থীর করা মামলার শুনানিও এই মামলার সাথেই হয়েছে। সেই মামলায় ছিলেন কল্যাণ ব্যানার্জি, মমতা ব্যানার্জি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

মূল মামলাকারীর পক্ষ থেকে এই মামলায় নেতৃত্ব দেন সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আইনজীবীদের একাংশের দাবি মমতা ব্যানার্জি এসে কোর্টের সময় নষ্ট ও মূল মামলাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন।

২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসা ও সেই সংক্রান্ত মামলার বিষয় নিয়েও আজ কোর্টের নজরে আনা হয়েছে।

মামলাকারিদের পক্ষে আইনজীবী ঋতঙ্কর দাস বলেন, ‘হগ মার্কেটে ভাঙচুর ও যে পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মূর্শিদাবাদে লেনিন মূর্তি ভাঙচুর ও বনগাঁয় নীল বিদ্রোহের স্থাপত্যের ওপর আক্রমণের বিষয়'ও কোর্টের দৃষ্টিতে আনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও রাজ্যের অন্যত্র যেখানে যেখানে এই ভাঙচুরের ঘটনা চলছে সেখানেও আদালতের  হস্তক্ষেপের আবেদন করা হয়েছে। বুলডোজার - জেসিবি নিয়ে মিছিলও বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে।’ মূল মামলাকারীর পক্ষ থেকে কোর্টে সাওয়াল করেন  আইনজীবী ঋতঙ্কর দাস, সৌম্য দাশগুপ্ত, সাত্ত্বিক মজুমদার। 

উল্লেখ্য নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে মমতা ব্যানার্জি সাংবাদিক সম্মেলন করে সরব হন ভোট পরবর্তী হিংসাকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন ২০১১ সালে তারা ক্ষমতায় আসার পর বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়নি।
২০১১ মে মাস থেকে ২০১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তৃণমূলের বাহিনীর হাতে ৫৬ জন পার্টি সদস্য খুন হন। ১০০০ এর বেশি মহিলা কমরেডদের ওপরে অমানবিক আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়। ঘরছাড়া হয় ৪০ হাজারের বেশি কর্মী সমর্থক। আক্রান্ত হন সাড়ে চার হাজারের বেশি কর্মী সমর্থক। ৫৮৮ দলীয় দপ্তর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৬ হাজারের বেশি কর্মী সমর্থক এবং নেতারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় পুলিশকে ব্যবহার করে।

 

 

Comments :0

Login to leave a comment