ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। রবিবার বিশেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন না থাকলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের আদালতে প্রবেশ ও বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে যাতে কোনও আশঙ্কা বা বাধার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই কারণে অবিলম্বে ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।
আদালতের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত স্বাভাবিক করতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজনে যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে।
সিজেপির বিক্ষোভের আগে দিল্লির মেট্রো, ট্রেন বাতিল, ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মামলা করেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। এদিন ছিল সেই মামলার শুনানি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে আসা মেট্রো ও ট্রেন চলাচলের উপর যেন সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি না হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, বিক্ষোভের কারণে সমস্ত পরিষেবা স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না।
কিন্তু অভিযোগ, এরপরও দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই পদক্ষেপকে আদালত অবমাননা বলে দাবি করেন।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, প্রতিবাদ করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদ আইন মেনেই করতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনাদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। কিন্তু প্রতিবাদের পদ্ধতি পুলিশ আইন মেনে হতে হবে।’
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি আবেদনকারীকে জানান, প্রতিবাদ করার অধিকার পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এদিনের শুনানিতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (DMRC) নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে এবং তাদের আটকের পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দেশ পালনের বিষয়ে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিক্ষোভের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Supreme Court
দিল্লিতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, অবিলম্বে ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ
×
Comments :0