Suicide Attack In Pakistan

বাধা দিতেই বিস্ফোরণ, ইসলামাবাদে মৃত বেড়ে ৬৯, জখম ১৬৯

আন্তর্জাতিক

শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আত্মঘাতী বোমা হামলায় এখনও প্রর্যন্ত ৬৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছেন দেড়শো জনের বেশি মানুষ।  শহরের শাহজাদ টাউন এলাকার ইমাম বারগাহ খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে বিস্ফোরণে ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। ১৬৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। 
প্রত্যক্ষদর্শীদরা জানিয়েছেন, নামাজ শেষ পর্যায়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে মসজিদের গেটের কাছে থাকা লোকজন ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা  করা হচ্ছে।
পুলিশ এবং নিরাপত্তা কর্মীদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী প্রথমে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে, প্রবেশপথে মোতায়েন নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দিলে হামলাকারী গেটের কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। যদি সে মূল হলের কাছে পৌঁছাত, তাহলে প্রাণ হানির সংখ্যা আরও বেশি হতো। তবুও বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে গেটটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশেপাশের ভবনগুলির জানালা ভেঙে পড়ে। বিসড্ফোরণে আহতদের ইসলামাবাদের পলিক্লিনিক হাসপাতাল, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস এবং সিডিএ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, সমস্ত বড় হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পিআইএমএসের এক মুখপাত্র বলেন, গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য অর্থোপেডিক, বার্ন এবং নিউরোলজি বিভাগগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর মসজিদের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের এলাকা সম্পূর্ণ ঘিরে দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসন ইসলামাবাদ জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
এটাই প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। এর আগে গত ১১ নভেম্বর ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালত ভবনের বাইরে এক আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হন। তিন মাসের মধ্যে এই দ্বিতীয় বড় সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। যদিও  কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে নি। 

Comments :0

Login to leave a comment