গত ৫ অক্টোবরের বিধ্বংসী প্লাবনের স্মৃতি এখনও তাজা জলঢাকা নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষের মনে। সেই ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে পড়েছিল নদীর বাঁধ, তছনছ হয়ে গিয়েছিল বহু ঘরবাড়ি, জীবিকা হারিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। সেই ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই ফের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বালি মাফিয়াদের দাপট। নদী বাঁচানো ও গ্রাম রক্ষার তাগিদে এবার প্রশাসনের আশ্বাসে আর ভরসা রাখতে রাজি নন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পথে নামলেন ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙারহাট ও রথেরহাট এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। জলঢাকা নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের রাস্তায় বাঁশের ব্যারিকেড গড়ে তুলে বালি বোঝাই ডাম্পারের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
তাঁদের অভিযোগ, গত ৫ অক্টোবরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ এখনও মেরামত সম্পূর্ণ হয়নি। অথচ সেই দুর্বল বাঁধের উপর দিয়েই প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি ভারী ডাম্পার যাতায়াত করছে। এর ফলে বাঁধের উপর বসানো পাথর সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর গর্ত। যেকোনো সময় বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গ্রামবাসী নবীন রায় বলেন,‘‘বালি মাফিয়াদের অবাধ দৌরাত্ম্যে বাঁধ ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে। বর্ষা আর বেশি দূরে নয়। আবার যদি জলঢাকা ফুলে ওঠে, এই নড়বড়ে বাঁধ আর গ্রাম রক্ষা করতে পারবে না। আমরা আর নতুন করে সর্বস্বান্ত হতে চাই না।’’
বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালি উত্তোলনের পেছনে শাসকদলের একাংশের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে। লিজের অজুহাতে নির্বিচারে নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে, বিপন্ন হয়ে পড়ছে জলঢাকার স্বাভাবিক প্রবাহ ও অস্তিত্ব। ডালেরমাথা এলাকায় নদীর মাঝখানে ডাম্পার নামানোর সুবিধার জন্য স্পারবাঁধ পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এর ফলে নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গা ঘেঁষে কীভাবে ভারী ডাম্পার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়? শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন আদৌ কতটা চিন্তিত, তা নিয়েও উঠছে তীব্র প্রশ্ন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ময়নাগুড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক ভিক্টর সাহা জানান,‘‘ওই এলাকায় বালি উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
তবে প্রশাসনিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে নারাজ গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ বক্তব্য, বালি মাফিয়াদের হুমকি বা প্রলোভন কোনও কিছুতেই তাঁরা পিছু হটবেন না। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন উত্তরবঙ্গের এই লড়াকু মানুষগুলো।
Sand Mafia
জলঢাকায় বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য রুখতে বাঁশের ব্যারিকেড গ্রামবাসীদের
×
Comments :0