State Budget 2026

রাজ্যে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বড় মাত্রায় কমানো হচ্ছে খরচ

রাজ্য কলকাতা

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য প্রধান দুই ক্ষেত্রেই যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল তার তুলনাই খরচ অনেকটাই কম। মূলত শিক্ষা ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি খাতে তা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। 
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছিল ৫০,৫৫৯ কোটি টাকা তবে সেক্ষেত্রে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাতে ৫১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। 
তেমনি স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৩৮কোটি টাকা। তবে খরচ করা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২৩ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। 
এমনকি এই দু’টি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি চালায় তাতেও বরাদ্দের তুলনায় খরচের পরিমান অনেকটাই কম। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রাপ্ত প্রকল্পও রয়েছে। 
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকল্পগুলির খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা তবে সেখানেও খরচের পরিমাণ কম। খরচ করা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ১১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। 
পাশাপাশি, স্বাস্থ্য এবং পরিবার উন্নয়ন প্রকল্পগুলির খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় তবে খরচ করা হয়েছে ৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। তবে এবার এই খাতে বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৭ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা বা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থবর্ষে ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা কম বরাদ্দ করা হলো)।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ টাকা খরচ করা হয়নি। গতবার বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা। খরচ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। এবার ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। 
কৃষি ও তার সাথে সম্পর্কযুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। তবে খরচ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই খাতের জন্য ২৪ হাজার ৩১২কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প এবং খনিজ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা  তবে খরচ করা হয় মাত্র ১ হাজার ০৯৫ কোটি টাকা। তবে বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
এমনকি রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গত বাজেটে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার ৫২৪ কোটি। কিন্তু খরচ হয়েছে ১৫ হাজার ৪৪৫ কোটি। এবার ১৯ হাজার ২২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। 
শিল্প এবং খনিজ  ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা ,খরচ ৮৭৭ কোটি টাকা এবং প্রস্তাব ২হাজার ৬২৪ কোটি টাকা
বাজেট নথিতে জানানো হচ্ছে যে গত বার কেন্দ্রীয় কর এবং শুল্কের অংশ বাবদ রাজ্য ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা প্রাপ্তির অনুমান করেছিল। কিন্তু মিলেছে তার থেকে সামান্য বেশি, ১ লক্ষ ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। আগামী অর্থবর্ষে ১ লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকা মিলবে বলে অনুমান করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রাপ্ত প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান বাবদ ২৮ হাজার কোটি টাকা গতবার আসবে বলে ধরা হলেও মিলেছে ১৩ হাজার কোটির কিছু বেশি। এবার ২৮ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা মিলবে বলে অনুমান বাজেটে। 
পাশাপাশি, অর্থ কমিশনের অনুদান বাবদ ৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এসেছে ৭ হাজার ৯৩০ কোটি। এবার ১৮ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা মিলবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment