Md Salim on Police Inaction

বারুইপুর থেকে কোচবিহার, নিষ্ক্রিয় পুলিশ, বিজেপি সরকার কী ‘তৃণমূল-টু’? প্রশ্ন সেলিমের

রাজ্য কলকাতা

মঙ্গলবার কলকাতায় মুজফ্‌পর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম।

সরকার পালটালেও পুলিশের ভূমিকা পালটাচ্ছে না। অভিযোগ পেলেও সক্রিয় হচ্ছে না পুলিশ। বারুইপুরে কিশোরীর ধর্ষণ-হত্যার ঘটনাতেও পুলিশ প্রথমে সক্রিয় হয়নি।  বিজেপি সরকারের সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ। কিন্তু বিজেপি সরকার ‘তৃণমূল-টু’ হওয়ার পথে চলছে।
মঙ্গলবার কোচবিহারে মীনাক্ষী মুখার্জি সহ সিপিআই(এম) নেতৃত্বের ওপর হামলার ঘটনাতেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন সেলিম। 
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতায় হকার বিক্ষোভ, এসআইআর ট্রাইবুনালের শ্লথ গতি প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন তিনি। 
পাশাপাশি তুলেছেন চোপড়ার ঘটনাও। যেখানে আদিবাসী মহিলা বছরের পর বছর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ জানালেও পুলিশ মামলা দায়ের করেনি। এই মহিলা অভিযোগ করেছেন চোপড়ার বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে। 
বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘দেখা গেল পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। পরিবার বলছে, গ্রামবাসী বলছে, আমরাও বলছি। সরকারের দেখা উচিত সরকার পালটালেও পুলিশ কেন পালটাচ্ছে না।’’ 


তিনি বলেন, ‘‘বারুইপুরে কিশোরীর মৃত্যু এই অবস্থাকেই প্রমাণ করছে। বলা হচ্ছে গুন্ডাদমন আইন, অভয়ার পর বলা হয়েছিল ফাঁসির আইন। সমস্যাটা আসলে আইন নয়। আসলে আইনের প্রয়োগ।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘বারুইপুরে মানুষকে কেন খুঁজতে বেরতে হলো। দল বেঁধে খোঁজ করতে হলো। তাঁরাই পুকুরে দেহ পেল। পুলিশ কী করল? জিজ্ঞাসাবাদের বদলে বিজেপি’র স্থানীয় নেতার প্রভাবে অভিযুক্তকে ছেড়ে দিল কেন।’’
সেলিম বলেন, ‘‘মমতা থানায় গিয়ে অপরাধীকে ছাড়িয়েছিলেন। অপরাধীদের বুকের পাটা বেড়ে গিয়েছিল।’’
এই প্রসঙ্গেই সেলিম বলেন, ‘‘সন্দেহভাজনকে যেভাবে ‘মব লিঞ্চিং‘ করা হলো, সেটাও অন্যায়। ‘মব জাস্টিস‘ অন্যায়। এই অন্যায় সারা দেশে আমরা প্রায় এক দশক ধরে দেখছি।’’ 
শীতলকুচিতে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের আক্রমণে নৃশংসভাবে খুন হওয়া গরিব মজুর মন্টু মিঞার মৃতদেহ উদ্ধারের পরও পুলিশ একজনকেও গ্রেপ্তার করেনি। গোটা গ্রামের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মীনাক্ষী মুখার্জি সহ সিপিআই(এম) নেতৃবন্দ।
কোচবিহারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘খানিক আগে মীনাক্ষী মুখার্জি, অলকেশ দাস, অনন্ত রায়কে এসপি অফিসের সামনে ধরনা দিতে হয়েছে। কোচবিহারে হত্যা করা হয়েছে এক দিনমজুরকে। দু’মাস বাদে পশু হাট চালু হয়েছে। তিনি একজনের কেনা গরু পৌঁছে দিচ্ছিলেন। তাঁকে হত্যা করে ফেলে রাখা হলো। সেখানেও মিসিং ডায়েরি হয়েছে। পুলিশ খোঁজ করেনি।’’
সেলিম বলেন, ‘‘সে কারণে পার্টি প্রতিনিধিদল গিয়েছিল। বাড়ি গিয়ে দেখা করে ফিরে আসার পথে বিজেপি আক্রমণ করার চেষ্টা করে। দেখা যাচ্ছে বিরোধীরা যাতে যাতায়াত করতে না পারে তার জন্য নতুন কায়দা। তৃণমূলের সময়ে বন্দুক নিয়ে পাহারা দিত। এখন অন্য পন্থা নিচ্ছে। কিন্তু মীনাক্ষীরা তৃণমূলের মতো ‘চোর‘ নেতা নয়। এসপি অফিসে ধর্ণা দিয়েছেন। ডিএসপি জানান যে দু’জনকে ধরা হয়েছে। তার পর ধর্ণা তুলেছে।’’ 

Comments :0

Login to leave a comment