দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
উৎসবের আগের দিনেও সেই চেনা উৎসবের উচ্ছ্বাস যেন খুঁজে পাচ্ছেন না জলপাইগুড়ির ব্যবসায়ীরা। শহরের দিনবাজার, মার্চেন্ট রোড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মসজিদের সামনে অস্থায়ী সেমাই ও শুকনো ফলের দোকান সর্বত্রই ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও কেনাকাটার হাত অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছেন সাধারণ মানুষ।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বাজারে শুধু ভিড় থাকলেই আর বিক্রি বাড়ছে না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি কিছু কেনার সাহস পাচ্ছেন না বহু পরিবার। দিনবাজার এলাকার সেমাই বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, “গত বছর যেটা ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি, এ বছর সেই সেমাই ১১০-১২০ টাকার নিচে আনা যাচ্ছে না। কাজু, কিসমিস, খেজুর সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে। মানুষ জিজ্ঞেস করছে বেশি, কিনছে কম।”
মার্চেন্ট রোডের পোশাক ব্যবসায়ী নুর আলমের কথায়, “আগে ঈদের দশদিন আগে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। এবার মানুষ হিসেব করে কিনছে। একটা জামা কিনলে আরেকটা বাদ দিচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, রান্নার গ্যাস, জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ বাড়ায় প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে।
শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানেও একই ছবি। ছানার দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই চড়া। ফলে অনেকেই আগের মতো বড় পরিমাণে কেনাকাটা করছেন না।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, কাজের অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কিছু নির্দেশিকা নিয়েও নিচু স্বরে উদ্বেগ শোনা যাচ্ছে সংখ্যালঘু মহলের একাংশের মধ্যে। যদিও প্রকাশ্যে কেউই খুব বেশি মুখ খুলতে চাইছেন না তাঁরা।
শহর সংলগ্ন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এলাকার মাহুদ পড়ার বাসিন্দা রহিমা বিবি বলেন, “উৎসব তো আসবেই, বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনতেই হয়। কিন্তু আগের মতো আনন্দ নেই। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে।”
প্রবীণ ব্যবসায়ী গৌতম সাহা বলেন, “অনেকেই এখন পুরনো দিনের বাজারের কথা বলেন। তখন মানুষের হাতে কিছুটা বাড়তি টাকা থাকত, বাজারেও সেই প্রাণ ছিল। এখন সবকিছুতেই চাপ।”
সব মিলিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি থাকলেও এবারের ঈদের বাজারে যেন আনন্দের চেয়ে হিসেব-নিকেশ আর অনিশ্চয়তার ছায়াই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
Comments :0