সামাজিক উন্নয়নে সাফল্যের কারণে পুরস্কারের বদলে তিরস্কার জুটছে। আসন পুনর্নবিন্যাস প্রক্রিয়ায় চালু নিয়ম ধরে এগলে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কমে যাবে দক্ষিণের রাজ্যগুলির। এই সমস্যা নিরসন করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে এই দাবি করেছেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। চালু নিয়মে জনসংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলিতে আসনসংখ্যা ঠিক হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখালেও এই নিয়মে শাস্তির মুখেই পড়ছে এই রাজ্যগুলি।
আসন পুনর্বিন্যাস পদ্ধতি বিষয়ে আলোচনার জন্য তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন ৫ মার্চ। তিনি বলেছেন যে পরিবার পরিকল্পনায় সাফল্য দেখিয়ে তামিলনাডুর মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলির গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কমে যাচ্ছে।
এই বিতর্কেই ক্ষোভ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য। কোয়েম্বাটোরে তিনি বলেছেন, নরেন্দ্র মোদী দক্ষিণের রাজ্যগুলির কথা খেয়াল রাখছেন। দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন কমবে না। মোট আসন বাড়লে দক্ষিণের রাজ্যগুলিরও আসন বাড়বে।
শাহের মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে বৃন্দা কারাত বলেন, ‘‘আসন পুনর্গঠন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হচ্ছে যেন তাঁরাই ঠিক করবেন ভারতের কোন অংশ কতটুকু প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে।’’
কারাত বলেন, ‘‘সঙ্গত কারণেই তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি তুলেছেন। তবে কেবল তিনিই নন। দেশের বিভিন্ন অংশই এমন বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রের সরকারের পক্ষপাতিত্বে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। এ ধরনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত গণতান্ত্রিক মতবিনিময় পদ্ধতির মাধ্যমে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মুখের কথায় কোনও নিশ্চয়তা মিলতে পারে নাকি! তিনি এমন কথা বলেন কী করে? তাঁকে বিশ্বাসই বা করবে কে? একটি পদ্ধতি ধরে এগনো দরকার।’’
কারাত বলেন, ‘‘এখন কেবল জনসংখ্যার ভিত্তিতেই আসন ঠিক হয়। যে রাজ্যগুলিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য রয়েছে, আসন তো তাদেরই কমে যাবে, এই নিয়মে। তার মানে সামাজিক উন্নয়নে সাফল্যের জন্য পুরস্কৃত হওয়ার বদতে তারা শাস্তির মুখে পড়বে। দেখা যাচ্ছে দক্ষিণের রাজ্যগুলি সাফল্যের কারণে শাস্তির মুখে পড়ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কমে যাচ্ছে। নিশ্চিতভাবেই এই পদ্ধতি স্ববিরোধী। তার সমাধান জরুরি।
এদিকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার দপ্তর থেকে একটি অনুমান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখানো হয়েছে তামিলনাডুর আসন ৩৯ থেকে কমে হবে ৩১, কর্নাটকের ২৮ থেকে ২৬, কেরালার ২০ থেকে ১২। উলটোদিকে উত্তর ভারতের বিহারে লোকসভার আসন ৪০ থেকে বেড়ে হবে ৫০। উত্তর প্রদেশে আসন ৮০ থেকে বেড়ে ৯১ হবে।
Delimitation Brinda Karat
দক্ষিণের রাজ্যে কমছে আসন? শাহের মন্তব্যে ক্ষোভ বৃন্দা কারাতের

×
Comments :0