‘কোনও মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না’। ‘যারা পালাতে চান, পালিয়ে যান’।
দিল্লিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ ব্যানার্জিদের অংশের সঙ্গে বৈঠকের পরও দাবি, ‘‘কোনও চোরকে ছাড়া হবে না।‘’
বিধানসভায় মঙ্গলবার এমনই সব মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণে ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়েছে এদিন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মাঝে কক্ষত্যাগ করে বেরিয়ে যান তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিধায়করা।
তাঁদের উদ্দেশ্যে আবার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আপনারা কাকে সমর্থন করছেন, কার বিরোধিতা করছেন আগে ঠিক করুন।‘’
তৃণমূলে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে থাকা অংশের অন্যতম বিধায়ক কুনাল ঘোষ হইচইয়ের মধ্যেই বলেন, ‘‘চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। যাঁরা বাঁচতে তৃণমূল দল ভেঙে বেরিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিন।’’
তৃণমূলকে বিধানসভা এবং লোকসভায় ভাঙানোর পিছনে বিজেপি’র প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তীব্র। ঘটনা হলো তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক তালিকায় জাভেদ খান, অরূপ বিশ্বাসদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আবার সুদীপ ব্যানার্জি বা কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা সারদ-নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত।
বিধানসভায় ভাষণে শুভেন্দুর দাবি, অভয়া কাণ্ডের বিচার হবে। তামান্না হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। হাঁসখালি ধর্ষণ-হত্যা, কসবা ল কলেজে ধর্ষণের বিচার হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া। তিনি বলেন, ‘‘১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত। বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টারে ১৮০০ আটক।’’ তিনি বলেন, ‘‘থাকবে না কেউ। নিশ্চিন্ত থাকুন। মনে প্রাণে ভারতীয় হলে যে ধর্ম বা দল হোক, সমস্যা হবে না।’’ ‘পুশ ব্যাক শব্দ উহ্য রেখেও তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিনই পাঠানো হচ্ছে।’’
তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘কেন জমি দেননি বিএসএফ-কে। আগের মুখ্যমন্ত্রী বিএসএফ-কে কদর্য আক্রমণ করেছেন।’’ শুভেন্দু জানান বিভিন্ন জেলায় ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের বাস্তব পরিস্থিতি মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে বাদ থেকেছে। কোচবিহার থেকে স্বরূপনগরের হাকিমপুরের মতো বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার কারণ ১২০০ গজ ভেতরে দেওয়া হচ্ছে কাঁটাতার। ফলে চলে যাচ্ছে চাষের জমি, স্কুল। আবার কোনও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যাদের সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের সীমান্তরাক্ষীরা তাঁদেরই আটকে রাখছেন জিরো পয়েন্টে। শিশু-বৃদ্ধ নিয়ে মানবিক সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।
সেসব অগ্রাহ্য করে শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘সব মিলিয়ে ৬০০ কিমি বরাবর বেড়া হবে কয়েককমাসের মধ্যে। যারা পালাতে চান, পালিয়ে যান। হাকিমপুর দিয়ে অনেকে পালিয়েছে। রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিরাপত্তায় সরকারের নীতি পরিষ্কার। আঙুল তুললে যে ভাষায় বোঝে সে ভাষায় জবাব দেব।’’
ঋতব্রত ব্যানার্জি তাঁর ভাষণে হকার উচ্ছেদ এবং সোহরাওয়ার্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে কিছু বলেননি শুভেন্দু। নাম বদল নিয়ে তাঁর বক্তৃতায় ভুল ধরা পড়েছে আগেই। ভুল শুধরাননি তিনি। উলটে বলেছেন, ‘‘কোনও মোগল পাঠানের নাম থাকবে না।’’
প্রশ্ন হলো ভারতীয় সংবিধানের কোথায় এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
Assembly Shuvendu Adhikary
‘মোগল-পাঠান’, ‘পালিয়ে যান’ মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বিধানসভায়
×
Comments :0