Protests Rally

উচ্ছেদের প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে সিপিআই(এম)’র মহামিছিল

জেলা

ছবি রাজু ভট্টাচার্য।

অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি

রেলের জমিতে বসবাসকারী বস্তির গরীব মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়ে মহামিছিল হয় বুধবার। সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির ডাকে এদিন দুপুরে শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডের বস্তিবাসী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বাঘাযতীন পার্কের সামনে থেকে মহামিছিল শুরু হয়। হাসপাতাল মোড় হয়ে সোজা হিলকার্ট রোড ধরে সেবক মোড়, এয়ারভিউ মোড়ের দিকে এগিয়ে যায় মিছিল। এরপর মহানন্দা সেতু পেরিয়ে মিছিল সোজা শিলিগুড়ি মহকুমা দপ্তরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ছিলেন সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, গৌতম ঘোষ, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, শরদিন্দু চক্রবর্তী, ময়ূখ বিশ্বাস সহ অন্যান্য পার্টি নেতা কর্মীরা। বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়ে মহামিছিলে ছাত্র, যুব, মহিলাদের ভির ছিল চোখে পড়ার মতো। 
প্রসঙ্গত শিলিগুড়ি, বাগডোগরা, মাটিগাড়া, ডাবগ্রাম, এনজেপি এবং সংলগ্ন এলাকায় রেলের অব্যবহৃত জমিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলি নতুন সরকারের উচ্ছেদ নীতির দরুন উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এঁরা কঠোর পরিশ্রম করে বসতি ও জীবিকা গড়ে তুলেছেন। উচ্ছেদের মুখে পড়া এই সমস্ত মানুষদের ভোটার, রেশন, আধার, প্যান কার্ড, বিদ্যুৎ সংযোগের নথিপত্র সহ অন্যান্য সরকারি নথিও রয়েছে। তা সত্ত্বেও কোন মানবিক সমাধানের পথ অনুসরন না করেই সরকার এদের উচ্ছেদ করতে বুলডোজার নীতি গ্রহণ করেছে। রাজ্য সরকারের সেই বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মহামিছিল শেষে এদিন বেশ কিছু সময় মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরে সভা শুরু হয়। সভা চলাকালীন সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধিদল শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরের ভেতরে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সমন পাঠক, মুন্সী নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং, শরদিন্দু চক্রবর্তী ও তাপস গোস্বামী। সভায় বক্তব্য রাখেন মহিলা নেত্রী স্নিগ্ধা হাজরা।   
সমন পাঠক এদিন বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু রেলের জমি থেকে গরীব মানুষ যারা উচ্ছেদের মুখে পড়েছে, সেই সমস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের দাবি জানাতেই আমরা মহকুমা শাসকের দপ্তরে এসেছি। দুই মাসের নতুন বিজেপি সরকারের বুলডোজার নীতির কারণে লক্ষ লক্ষ গরীব মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই গরীব পেটের ভাত তাদের মাথার গোজার ঠাঁই কেড়ে নিতে চাইছে। রেলের অব্যবহৃত বস্তি কলোনিগুলিতে দীর্ঘ ষাট সত্তর বছর ধরে যে সমস্ত পরিবারগুলি বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছে সেই সমস্ত মানুষদের কোনভাবেই উচ্ছেদ করা চলবে না। শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের মাধ্যমে রাজ্যের সরকারের কাছে আমাদের হুঁশিয়ারি উচ্ছেদ করার আগে সমস্ত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের নিয়ে সরকারকে সুচিন্তিত বিকল্প ভাবনা চিন্তা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট কথা, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া কোন বস্তিবাসী মানুষ বা পরিবারের ওপর বুলডোজার চালানো হলে সেই বুলডোজাররাজের বিরুদ্ধে আমরা রাস্তার লড়াইতে থাকব।

Comments :0

Login to leave a comment