রাজ্যের কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতির গাইড লাইন মেনে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের কলেজ গুলিতে ডিগ্রি কোর্সে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্য কলেজগুলির পরিকাঠামোগত ঘাটতি, অধ্যাপকের সংকটের কথা বিবেচনায় রাখা হয় নি। আর তার ফলেই ’অনার্স উইথ রিসার্চ’ প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়েছে!
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা একাধিক কলেজে পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপক অধ্যাপকের ঘাটতি রয়েছে। আর পিএইচডি ডিগ্রিওয়ালা অধ্যাপক ছাড়া কার অধীনে হবে রিসার্চ? ফলে যোগ্যতা থাকা সত্বেও অনেক পড়ুয়াই অনার্স উইথ রিসার্চ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে।
ইতিমধ্যেই কলেজের অধ্যক্ষরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ গুলিকে জানিয়েছে কলেজে যেসব বিষয়ে অন্তত দুজন পিএইচডি ডিগ্রীধারী অধ্যাপক নেই সেই সব কলেজের পড়ুয়ারা এই সুযোগ পাবে না। তাদেরকে চার বছরের অনার্স করার পর স্নাতোকত্তরে ভর্তি হতে হবে!
বিভিন্ন কলেজ সূত্রে জানা গেছে নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী ষষ্ঠ সেমিস্টার পর্যন্ত যে সব পড়ুয়া ৭৫ শতাংশ নম্বর পাবে তারাই পরবর্তী সেমিস্টার থেকে গবেষণার সুযোগ পাবে।
অনিন্দ্য সরকার, শ্বাশ্বতী রায়দের মত, পড়ুয়াদের অভিযোগ আমরা যোগ্যতা নিয়ে পরিবারের আর্থিক সঙ্গতির কথা মাথায় রেখে ভর্তির কলেজ বেছে নিয়েছিলাম। তখন তো কলেজে ল্যাব, লাইব্রেরী কিংবা পিএইচডি ডিগ্রীধারী কজন অধ্যাপক আছে এসব দেখি নি। এখন তো দেখতে পাচ্ছি কলেজের পরিকাঠামোগত কিংবা অধ্যাপকের পিএইচডি করা না থাকায় ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়েও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবো। যোগ্যতাসম্পন্ন অধ্যাপক নিয়োগের দায়িত্ব তো শিক্ষা দপ্তরের। তাদের অবহেলার দায় কেন আমাদের নিতে হবে?
জেলার মেখলিগঞ্জ কলেজেই মোট দশটি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাংলা ছাড়া কোন বিষয়েই দুজন করে পিএইচডি করা অধ্যাপক নেই। ফলে এই কলেজের ৯ টি বিষয়ে পড়তে আসা পড়ুয়ারা বঞ্চিত হবে এই সুযোগ থেকে।
একই দশা মাথাভাঙার ঘোকসাডাঙ্গা বীরেন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের। এই কলেজেও একমাত্র বাংলা ছাড়া কোন বিষয়েই দুজন করে পিএইচডি-করা অধ্যাপক নেই। ফলে সেই বিষয়গুলিতে ৭৫শতাংশ নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারা অনার্স উইথ রিসার্চ থেকে বঞ্চিত হবে। কোচবিহার জেলার গ্রামীণ এলাকার কলেজগুলিতে সংকট বেশি। পাশাপাশি জেলা শহরের অনেক নামী কলেজেও পিএইচডি করা অধ্যাপকের ঘাটতি সামনে আসছে নয়া সিদ্ধান্তে।
কোচবিহার শহরের ‘‘কোচবিহার কলেজ’’ নামী কলেজগুলির একটি। এখানে স্নাতক স্তরে ১৭ টি বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। অথচ এই নামী কলেজেও ভূগোল, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহ মাত্র ৯ টি বিষয়ের পড়ুয়ারাই ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ এর সুযোগ পাবে। বাকি ৮ টি বিষয়ের পড়ুয়ারা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে। একই অবস্থা দিনহাটা কলেজেও! এখানে ১৬ টি বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও মাত্র ৬ টি বিষয়ের পড়ুয়ারা গবেষণার সুযোগ পাবে। রাজ্যের নতুন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী পড়ুয়াদের বঞ্চিত হবার বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে জানাবে সেদিকেই তাকিয়ে পড়ুয়ারা।
Comments :0