দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
অবশেষে শুরু হল অর্ধসমাপ্ত সেতুর কাজ। বৃহস্পতিবার করলাভ্যালি চা বাগানের চড়কডাঙ্গি লাইনের অর্ধসমাপ্ত সেতুতে কাজ করার জন্য জেসিবি নামতেই খুশির হাওয়া শ্রমিক মহলে। অর্ধসমাপ্ত সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মঙ্গলবার পথ অবরোধে শামিল হয়েছিলেন এই বাগানের শ্রমিকরা। সেদিন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসের গেটের সামনে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বসে পড়েন তাঁরা। পরবর্তীতে সদর বিডিও অফিসে বিডিও-র চেম্বারের সামনে অবস্থান বিক্ষোভেও বসেন তাঁরা। বিডিও সেই সময় ফোন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা এবং ইঞ্জিনিয়ারদের দ্রুত এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তারপরই গত মঙ্গলবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা এলাকা পরিদর্শন করেন। এদিন, বৃহস্পতিবার, সেতুর কাজ শুরু হযেছে।
বর্ষা শুরু হওয়ায় অর্ধসমাপ্ত ব্রিজের নিচে এবং আশেপাশে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন স্কুল ছাত্রছাত্রী, বাগান শ্রমিক থেকে শুরু করে অসুস্থরা।
বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধে নেমেছিলেন বলে জানিয়েছেন অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআই(এম) পঞ্চায়েত সদস্য রুবিনা মুন্ডা। এদিন কাজ শুরু হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘‘কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকরা খুশি। কিন্তু দ্রুত সেতুর কাজটি শেষ করে এলাকার মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তুলতে হবে।’’
করলাভ্যালি চা বাগানের চড়কডাঙ্গি লাইনের একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। ব্রিজটি নতুন করে তৈরি করার দাবি নিয়ে এই বাগানের শ্রমিকরা বাগানে মিছিল, বিক্ষোভ এবং বাগান সংলগ্ন আসাম মোড়ের ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধেও নামেন। জাতীয় সড়ক অবরোধের পর এই বাগানে ভাঙা ব্রিজটি পরিদর্শন করেন তৎকালীন জলপাইগুড়ি সদর বিডিও মিহির কর্মকার।
পরবর্তীতে, গত বছর, কালী পুজোর সময় থেকে এই দুর্বল ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজের কাজ শুরু হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রায় সমাপ্ত হয়ে যাওয়া সেতুটির কাজ আট মাস ধরে বন্ধ হয়ে ছিল। ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বাগান শ্রমিকদের মধ্যে।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের করলাভ্যালি চা বাগান ইউনিটের সম্পাদক গোবিন ওরাওঁ বলেছেন, ‘‘বিডিও’র কথা মতো কাজ শুরু হওয়ায় অভিনন্দন।’’
সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেছেন, ‘‘কী কারণে প্রায় আট মাস ধরে ব্রিজের কাজ বন্ধ হয়ে ছিল তা বোধগম্য নয়। কাজটি দ্রুত শেষ হলে শ্রমিকদের সুবিধা হবে। চা বাগান শ্রমিকদের স্বার্থে দ্রুত ব্রিজটির কাজ শেষ করা জরুরি।’’
Comments :0