ভ্রমণ
মুক্তধারা
খেরোর খাতায় ঔরঙ্গাবাদ
অভীক চ্যাটার্জী
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
অজন্তার শেষ গুহাটা হলো এই পুরো কমপ্লেক্সের সবচেয়ে সুন্দর অংশ। এটা মূলতঃ একটা চৈত্য গুহা। যেখানে অনন্ত নিদ্রায় শুয়ে আছে বোধিসত্ত্ব । অদ্ভুত সে মূর্তি। এখানে বলে রাখা ভালো, যে গুহাগুলোতে মূর্তি রয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক ভাবে একটু কম ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা একের পর এক গুহায় ঢুকেছি, আর বেড়িয়েছি বিমোহিত হয়ে। অদ্ভুত তার শিল্পশৈলী, অভাবনীয় তার গঠন বৈচিত্র। যেনো অবলোকিতেশ্বর নিজেই এসে গড়ে দিয়ে গেছেন এই সব কিছু। শেষ গুহা থেকে যখন আমরা বেরোলাম, সত্যিই আমরা যেনো এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছিলাম। এও সম্ভব!এই অদ্ভুত শিল্পকলা শুধু মানুষ তার হাতের ছেনি আর হাতুড়ি দিয়ে তৈরি করেছে! শেক্সপিয়ার ঠিকই বলেছেন,There are more things in heaven and earth, Horatio, Than are dreamt of in your philosophy.
এবার ফেরার পালা। আমরা সেই পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এলাম মাইন কমপ্লেক্সের দরজাতে। প্রচণ্ড ভিড় সেদিন, তার উপর বৃষ্টি নেমেছে। আমি আর শুভ দুজনেই রেইনকোট পরে লাইন এ দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় ঘন্টা দুয়েক লাইনেই থাকার পর বাস পেলাম আমরা। উঠলাম বাসে। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হলো আওরঙ্গবাদ পৌঁছনো। পথে একটা ertiga আমাদের জিজ্ঞেস করলো, খালিই যাচ্ছে, আমাদের সে নিয়ে যেতে পারে। আমরাও চড়ে বসলাম। ঘণ্টা তিনেক মধ্যেই পৌঁছে গেলাম আওরঙ্গবাদ শহরে। সেখান থেকে আবার একটা শেয়ার ট্যাক্সিতে ফিরে চললাম পুনে। আমাদের যাত্রা শেষ। এবার ঘরে ফেরার পালা। প্রায় ঘন্টা চারেক লাগবে। ক্লান্তিতে চোখ জুড়িয়ে এলো, মাথা এলিয়ে পড়লো পাশে।
আমি আবার ফিরে চলেছি আমার চেনা ছকে। আবার সেই ছোট্ট বারান্দা থেকে পাহাড় দেখে খুশি হব। আবার আমার ছোট্ট কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে আকাশের রঙের খেলা দেখে রং চেনাবো তাকে। কিন্তু আমার অন্তরের ভ্রমণ পিপাসু মন বার বার খুজতে থাকবে নতুন পথের সন্ধান। আমার যে পায়ের তলায় সর্ষে, মন থাকে না একখানে। আর ওয়াঘোরায় আবার ঢেউ উঠবে, আমার মত আরও এক পাগলাটে পথিক তাকে দেখে ঈর্ষান্বিত হবে। আর ঠিক তখনই আমার শহরে সন্ধ্যা নামবে। চাঁদ এসে চুমু খাবে অট্টালিকার ছাদে। আর আকাশের তারা গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়বো আমি। আমার পথ যে থেমে থেকে না। আমায় আবার বেরিয়ে পড়তে হবে। ঠিক এই ভাবেই। কারণ, ওই যে বললাম, পায়ের তলায় সর্ষে!
সমাপ্ত
Comments :0