Forward Block Rally

বিজেপি সভাপতির ‘গুন্ডা’ মন্তব্যে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিবাদ জলপাইগুড়িতে

জেলা

জলপাইগুড়িতে প্রতিবাদ সভা।

বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়ে জলপাইগুড়িতেও মিছিল করল ফরওয়ার্ড ব্লক। গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের বক্তৃতায় ‘ফরওয়ার্ড ব্লকের গুণ্ডারা’ মন্তব্য করেন বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই প্রতিবাদ জানাচ্ছে ফরোয়ার্ড ব্লক। প্রতিবাদ জানিয়েছে কলকাতাতেও।
ফরওয়ার্ড ব্লক বিবৃতিতে বলেছে, গত ৬ জুলাইয়ের ওই সভায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন যে ১৯৪০ সালে কলকাতার মহম্মদ আলি পার্কে ভাষণরত শ্যামাপ্রসাদের ওপর ফরওয়ার্ড ব্লকের গুন্ডারা পাথর ছুঁড়ে মেরেছিল। শ্যামাপ্রসাদ সংযম দেখিয়েছিলেন, না হলে ফরওয়ার্ড ব্লকের কেউ বেঁচে থাকত না। 
জলপাইগুড়িতে প্রতিবাদ সভা হয় কদমতলা মোড়ে। মিতালী দে, যুব নেতা সপ্তদীপ সেনগুপ্ত, সব নেতা গৌতম দাস, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য নেতা গোবিন্দ রায় প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক নেতা অমল গোস্বামী। 
নেতৃবৃন্দ বলেন যাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও ভূমিকা নেই সেই আরএসএস ব্রিটিশের চাটুকারিতা করেছে। সেই ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিয়ে বাংলাভাগে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মহান ভূমিকাকে তুলে ধরতে নেমেছে। 
বামপন্থী প্রগতিশীল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তির ধারা বহনকারী আরএসএস বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানান তারা। 
স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরে ফরওয়ার্ড ব্লক বিবৃতিতে বলেছে যে ‘মুসলিম লিগের উগ্র মৌলবাদী আস্ফালন একদিকে শুরু হয়েছে সে সময়। আরেকদিকে হিন্দু মৌলবাদী মঞ্চের জন্ম দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি হিন্দুমহাসভার মাধ্যমে জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করে হিন্দুত্ববাদের জিগির তুলে ধরেছেন। সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।’ 
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শ্যামাপ্রসাদ কখনই সুভাষচন্দ্রের ব্যক্তি শত্রু ছিলেন না।’ কিন্তু ‘সম্প্রীতি ও সংহতির বার্তাবাহক সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সংঘাত হয়। সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন যে হিন্দু মাত্রেরই সাধু, ত্রিশূলধারীরদের দেখে শির নত করে, কিন্তু সাধু সন্ন্যাসীরা রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করলে তার পরিণাম রাষ্ট্রের পক্ষে ক্ষতিকর হবে। তাই হিন্দু মাত্রেই তার প্রতিবাদ করা উচিত।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কলকাতার খিদিরপুর পোর্ট দিয়ে সুভাষচন্দ্রকে ব্রিটিশরা জাহাজে মান্দালয় পাঠিয়েছিল। কিন্তু কলকাতা বন্দরের নামকরণ সুভাষচন্দ্রের নামে করার দাবিকে উপেক্ষা করে শ্যামাপ্রসাদের নামে করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment