eviction notice

নদী চরে অবৈধ রিসোর্ট , উচ্ছেদের নোটিশ মাল মহকুমা প্রশাসনের

জেলা

সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর চরে বিলাসবহুল রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছিল। অবশেষে সেই অবৈধ রিসোর্ট খালি করার নির্দেশ দিল মাল মহকুমা প্রশাসন। মেটলি ব্লকের মাটিয়ালী বাতাবাড়ি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালডাঙ্গা এলাকার কুর্তি নদীর ধারে গড়ে ওঠা ‘গ্র্যান্ড ডুয়ার্স ইকো রিসোর্ট’ ঘিরে ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
সূত্রের খবর, প্রায় ১০-১২ বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালী তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের মদতে কুর্তি নদীর চরের সরকারি জমি দখল করেন সৌমেন মালাকার নামে এক ব্যক্তি। এরপর সেখানেই বিশাল ওই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সুইমিং পুলও। একসময়ে কুর্তি নদীর মূল প্রবাহপথের গা ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে এই অবৈধ নির্মাণ। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন এতদিন কার্যত নীরব ছিল।
শনিবার বিকেলে মাল মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিসোর্টের দেওয়ালে উচ্ছেদের নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্ত জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১১ জুলাই ওই রিসোর্টের দখল নেবে প্রশাসন। তবে ঘটনার পর থেকে রিসোর্টের মালিক সৌমেন মালাকার পলাতক। ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


এই রিসোর্ট তৈরির পেছনে কলকাতার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার হাত রয়েছে বলে এলাকাবাসীর একাংশের অনুমান। এনিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করেছেন বিরোধীরা। 
উল্লেখ্য, বছর দুয়েক আগে মূর্তি, ধূপঝোরা ও লাটাগুড়ি এলাকায় সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বেশ কিছু রিসোর্ট প্রশাসন ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই উচ্ছেদ অভিযান মাঝপথে থমকে যায়। এবার সরকার বদলের পর প্রশাসন ফের ‘অ্যাকশন মোডে’ আসায় এলাকায় জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে গড়ে উঠল এই অবৈধ রিসোর্ট? কার মদতে এই পরিবেশ ধ্বংসের কারবার চলছিল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

Comments :0

Login to leave a comment