ভারী বৃষ্টি ও ধস নেমে বিপর্যস্ত মুম্বাই, বন্ধ একাধিক রাস্তা, মৃত অন্তত ৩। গত তিন থেকে চার দিনে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত দুর্ভোগ বাড়ছে জনজীবন। সোমবার সকালে পুনে জেলায় একটি বিশাল ভূমিধস ঘটে, এতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য মৃত্যু হয়েছে। মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরোনো মুম্বাই-পুনে হাইওয়েতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের নাম নন্দু টিকোন (৬০), মৌলি টিকোন (৩০) এবং অনিতা টিকোন (৫৫)। নিহতেরা একই পরিবারের সদস্য।
সংবাদ সংস্থার খবরে জানা গেছে সোমবার মহারাষ্ট্রের পুনের পাটন গ্রামে বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে পাহাড়ের একাংশ। ধ্বংসাবশেষ একটি বাড়ির উপর পড়লে একজন নিহত এবং একই পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরে গ্রামে ভূমিধসের ফলে একটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং পরিবারের তিন সদস্য ভেতরে আটকা পড়েন। এনডিআরএফ‘র এক আধিকারিক বলেন,‘‘ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি দুজনের খোঁজ চলছে।’’ এই ভূমিধসটি দুটি শহরকে সংযোগকারী লাইফলাইনটির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের উপর হঠাৎ করে প্রায় ১০০ টন ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ গজানন টোম্পে বলেন, ‘‘ভারী বৃষ্টির পর গ্রামের তিনটি স্থানে ভূমিধস হয়েছে। একটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। সেই সময় বাড়ির ভেতরে তিনজন ছিলেন। এনডিআরএফ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নিখোঁজদের সন্ধানে।
আধিকারিকদের বক্তব্য, মাভাল জেলার পাটন গ্রামে ভোর ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে নিচের বাড়িগুলোর ওপর পড়ে। পাঁচটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্পূর্ণভাবে চাপা পড়ে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুনে থেকে ৩০ সদস্যের একটি এনডিআরএফ দল উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়। উদ্ধারকারীরা মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রবিবার মুম্বাইয়ের পানভেলের গাদেশ্বর কমপ্লেক্সে জলে নেমে কয়েকজনের ডুবে মৃত্যু হয়েছে। মাথেরান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে জলের স্রোত খুব তীব্র হয়ে উঠে। জলের স্তরও বেড়ে যায়। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, অন্যজনের খোঁজ চলছে। রেললাইনে জল জমে যাওয়া এবং ছোটখাটো ভূমিধসের কারণে রেল পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ দাবি করেছেন , এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হয়েছে। পুনে থেকে মুম্বাই পর্যন্ত একটি লেন পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে যে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হয়ে যাবে।
আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মুম্বাই ও পুনের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর জন্য পুলিশ ও প্রশাসন জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন।
টানা বৃষ্টি মুম্বাই এবং তার আশেপাশের এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত। আইএমডি অতি ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাসের পূর্বাভাস দিয়ে মুম্বাই, থানে এবং রায়গড় জেলার জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সতর্ক করা হয়েছে সোমবার সন্ধ্যায় ৪.০৮ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ এবং ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির কারণে মুম্বাই এবং তার আশেপাশের এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায়, রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মুম্বাইয়ের সমস্ত বেসরকারি অফিসের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে। এ ছাড়াও, সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মচারীদের (অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় নিযুক্তরা ছাড়া) জন্য দুপুর থেকে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে তিনটি উপশহরের রেললাইনের সবকটিতেই ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক ট্রেন দেরিতে চলছে। এছাড়াও, ওভারহেড তারে এক টুকরো প্লাস্টিক আটকে যাওয়ায় কাঞ্জুরমার্গ এবং ভান্ডুপ স্টেশনের মধ্যে 'স্লো লাইন'-এ যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। সেন্ট্রাল রেলওয়ে জানিয়েছে যে প্লাস্টিকটি সরানোর কাজ চলছে এবং শীঘ্রই পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে। গত তিন থেকে চার দিনে বৃষ্টিজনিত ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
Maharashtra
বৃষ্টি ধসে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র, ভূমিধসে নিহত ৩
×
Comments :0