Modi's Real Guarantee

এটাই মোদীর আসল গ্যারান্টি

সম্পাদকীয় বিভাগ

নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় ভাষণ দিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডাবল ইঞ্জিনের মহিমা কীর্তন করেছিলেন। মোদীর গ্যারান্টি বিতরণ করে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ‘ভয় আউট ভরসা ইন’। বিরোধী নেতা হিসাবে শুভেন্দু গলার শিরা ফুলিয়ে বলেছিলেন বিজেপি জিতলে মহিলাদের পূর্ণ নিরাপত্তা মিলবে। ধর্ষণ শব্দটিই বাংলা থেকে মুছে দেওয়া হবে। তারপরও যদি কেউ এমন কাজ করে তবে সকালে জমা করে বিকেলে খরচ করে দেওয়া হবে।
নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে; বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই জিতেছে। শুভেন্দুর নেতৃত্বে নতুন সরকার দু’মাস অতিক্রম করার মুখে। কিন্তু বাংলা এখনো মোদীর গ্যারান্টির দেখা পায়নি। উলটে ভয় ইন হয়ে ভরসা আউট হয়ে গেছে। ডাবল ইঞ্জিন এখন মশগুল হয়ে পড়েছে সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডাগুলিকে কেন্দ্র করে বাংলার সম্প্রীতির সমাজে ভাঙন ধরাতে এবং ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মাত্রাকে তীব্রতর করতে। তার জন্য সকাল-সন্ধ্যা চলছে মিথ্যা আর বিকৃতির বেসাতি। আর শুভেন্দুর ঘোষণা হাওয়ায় মি‍লিয়ে গেছে। বাংলা মহিলাদের জন্য নিরাপদ হয়নি। গত ১৫ বছরের ট্র্যাডিশন শুভেন্দুর সরকার বয়ে নিয়ে চলেছে। গত দু’মাসের মধ্যেই অন্তত ৮টি ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। মেইন স্ট্রিম মিডিয়া সরকারের গুড বুকে থাকতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে ধর্ষণ শব্দ ও ঘটনা আড়াল করতে। কিন্তু সোশাল মিডিয়া এবং লোকমুখে সেটা ক্রমাগত প্রসারিত ও প্রকট হচ্ছে।
শুভেন্দু জমানায় সর্বশেষ পৈশাচিক গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে বারুইপুরে। ১১ বছরের কি‍শোরী ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার-পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে চূড়ান্ত অমানুষিক বর্বরতায় খুন করা হয়েছে। তারপর দেহ বস্তাবন্দি করে পুকুরের জলে ডুবিয়ে রেখেছে। গত ১৫ বছর ধরে এমন নৃশংসতা প্রতিনিয়ত রাজ্যের মানুষের দেখে গেছে। ধর্ষক-খুনিরা শাসক দলেরই নেতা-কর্মী-সমর্থক অথবা ছত্রছায়ায় লালিত পালিত। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। এ জমানাতেও তার অন্যথা হচ্ছে না। বারুইপুরের কিশোরীর ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তরা সকলে বর্তমান শাসক বিজেপি’র কর্মী-সমর্থক। কিশোরীর নিখোঁজ হবার অব্যবহিত পরেই থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের সক্রিয়তা বা তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে গ্রামবাসীরা রাতভর তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ান চারদিক। অভিযুক্ত ধরে গ্রামবাসীরা তুলে দেয় পুলিশের হাতে। কিন্তু স্থানীয় বিজেপি নেতার হস্তক্ষেপে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। শাসক নেতা এবং পুলিশের এমন কদর্য ভূমিকায় ক্ষিপ্ত জনতা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। রেল, সড়ক অবরোধ চলে দীর্ঘক্ষণ।
ঘটনা হলো সরকার বদল হলেও শাসকের চরিত্র বদলায়নি। পুলিশও থেকে গেছে আগের মতই। মনে রাখতে হবে বিজেপি বিরাট ভোটে জিতলেও রাজ্যে তাদের কর্মী-সংগঠন ছিল না বললেই চলে। ভোটের পর তৃণমূল চোর-ধর্ষক-দাগী অপরাধীরা সুড়সুড় করে ঢুকে পড়েছে নতুন শাসকের আশ্রয়ে। বিজেপি-ও ভালো তৃণমূল আখ্যা দিয়ে তাদের সাদরে গ্রহণ করেছে। ফলে পরিস্থিতি আগে যা ছিল এখনো সেটাই আছে। উলটে নতুন দলের নতুন সরকার হবার ফলে নতুন নতুন চোর-ধর্ষক আমদানি বাড়ছে। অতএব নির্দ্ধিধায় মেনে নিতে হবে যা ছিল সেটাই আছে। যাহা তৃণমূল তাহাই বিজেপি। আগে তৃণমূলের নেতাদের হুকুমে পুলিশ কাজ করত এখন বিজেপি নেতাদের হুকুমে চলে। এটাই মোদীর আসল গ্যারান্টি।

Comments :0

Login to leave a comment