Dhupguri Potatoes Farmer

শস্য বিমার টাকা নিয়ে দুর্নীতি, বিক্ষোভ ধূপগুড়ির ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের

জেলা

সরকারি শস্য বিমার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ধূপগুড়িতে তীব্র বিক্ষোভ ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের। বিমার টাকা না পাওয়ায় এদিন ধূপগুড়ি ব্লক কৃষি দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আধিকারিকদের ঘেরাও করেন। কৃষি আধিকারিকরা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবাদে এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করা হয়।দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে ব্যস্ততম সড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
আন্দোলনরত কৃষক মনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত কৃষকরা বিমার টাকা পাচ্ছেন না। সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি ক্ষতিপূরণ। উল্টে বিমার টাকা বিতরণে চলছে চরম স্বজনপোষণ ও কাটমানি রাজ। আন্দোলনরত আরেক কৃষক রাজ কুমার রায়ের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে যাদের ক্ষতি হয়নি, এমন একাংশকে প্রভাবিত করে বিমার টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ কৃষি দপ্তরের একাংশ কর্মীর যোগসাজশে এই দুর্নীতি চলছে। প্রায় ১০ হাজার কৃষক সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
বিক্ষোভের খবর পেয়েই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে এসডিপিও অরিন্দম পাল চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসে।সেখানে এডিএ-র সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনকারী কৃষক নেতা দুর্গাচরণ রায়, জয়ন্ত মজুমদার সহ একাধিক নেতৃত্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের জানানো হয়েছে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কৃষকদের পাওনা টাকা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। যদি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কেউ টাকা না পান, তবে ১ আগস্ট তাঁদের ব্লক কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
এদিনের এই আন্দোলনে উপস্থিত সারা ভারত কৃষক সভার জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল জানান, “এটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। আমাদের মূল লক্ষ্য ও দাবি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্নীতির অবসান ঘটানো।” প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে বিমার টাকা না মিললে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

Comments :0

Login to leave a comment