পৌরসভার মধ্যেই খুলে দেওয়া হলো বিধায়কের নিজস্ব কার্যালয়। নির্দেশিকার প্রতিলিপি হাতে পেলেন না নগরবাসী, অথচ ছড়িয়ে পড়ল ফেসবুকে। সেখানে আবার গরমিল তারিখে। এমনকি নির্দেশিকায় যে মেমো নম্বরের উল্লেখ রয়েছে সেই সংখ্যাতেও রয়েছে অসঙ্গতি।
ঘটনাক্রমে প্রশ্ন উঠল, ধূপগুড়ি পৌরসভা কি এখন বিজেপি বিধায়কের নিজস্ব কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে? অভিযোগ, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিধায়কের জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে।
২০২২ সালে পৌরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু ধূপগুড়িতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করায়নি বিগত তৃণমূল সরকার। তার বদলে প্রশাসক মণ্ডলী দিয়ে পৌরসভা চালানো শুরু হয়। বর্তমানে মহকুমা শাসক নিজে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কিন্তু শহরের সাধারণ মানুষ যখন নিত্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত, তখন পৌরসভার অন্দরমহলে বিধায়কের জন্য বিশেষ ঘর এবং নামফলক বরাদ্দ করা হয়েছে। মহকুমা শাসকের এই মর্মে চিঠিতে আবার ওপরে এবং নিচে তারিখে গরমিল। নোটিশের ওপরে তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ লেখা থাকলেও, স্বাক্ষরকারীর নিচে ১ জুলাই ২০২৫ লেখা রয়েছে। ফারাক এক বছরের!
রেগুলেটেড মার্কেটের উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিশে মেমো নম্বরের উল্লেখেও অসঙ্গতি। ১ জুলাইয়ের নোটিশে মেমো নম্বর ছিল ১২১৮। অথচ ৩ জুলাই রেগুলেটেড মার্কেটের উচ্ছেদ সংক্রান্ত নোটিশের মেমো নম্বর ১১৩৫। অর্থাৎ, পরের তারিখের নোটিশে আগের মেমো নম্বর ব্যবহার হয়েছে। ধূপগুড়ি বাজারে ‘অবৈধ দখলদার’ উচ্ছেদের নোটিশে এমন গরমিলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন রয়েছে, কিভাবে আগেই নোটিশের ছবি ফেসবুকে চলে এল তা নিয়েও।
পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের দাবি, "ধূপগুড়ি পৌরসভা কি এখন বিধায়কের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? পৌরসভা চলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা, সেখানে তৎকালীন তৃণমূলের প্রশাসক মণ্ডলী এবং বর্তমানে মহকুমা শাসক যা করছেন, তা ধুরন্ধর রাজনীতির নোংরা বহিঃপ্রকাশ। একজন বিধায়ক সরকারি দপ্তরে প্রয়োজনে যেতেই পারেন, কিন্তু অসাংবিধানিক ভাবে পৌরসভার ভেতরে একটি কক্ষ দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি করা যায় না।’’
তিনি বলেন, ‘‘সব থেকে উদ্বেগের বিষয় হল সরকারি নোটিশে তারিখ এবং মেমো নম্বরের কারচুপি। এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং এটি পরিকল্পিত জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। আমরা অবিলম্বে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’’
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল এবং কেন নথিপত্রে এত অসঙ্গতি, তা নিয়ে শহরজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ধূপগুড়ির মানুষ অবিলম্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে পৌরসভার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
Dhupguri Municipality
পৌরসভায় ঘর বিধায়ককে, অসঙ্গতি চিঠির তারিখ, মেমো নম্বরেও, ক্ষোভ ধূপগুড়িতে
×
Comments :0