Dhupguri Toto Drivers

টোটো চালকদের বিক্ষোভ ডেপুটেশন ধূপগুড়িতে

জেলা

কর্মসংস্থানের চরম সংকটের সময়ে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব ই-রিক্সা বা টোটো। বহু বেকার যুবক ও প্রান্তিক মানুষ টোটো চালিয়েই অন্নসংস্থান করছেন। অথচ, এই স্বনির্ভর মানুষগুলোই বর্তমানে প্রশাসন, পুলিশি হেনস্থা এবং তোলাবাজির শিকার। টোটো চালকদের আইনি স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা প্রদান এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠল ধূপগুড়িতে। সিআইটিইউ অনুমোদিত জলপাইগুড়ি ই-রিক্সা চালক ইউনিয়নের ডাকে বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এদিন দুপুরে শহরের হাসপাতাল পাড়া থেকে প্রায় ৫০০ টোটো চালক একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছায়। ইউনিয়নের ধূপগুড়ির সম্পাদক প্রদীপ সূত্রধর বলেন, টোটো চালকদের ওপর প্রশাসনিক দাপট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সমস্ত ই-রিক্সার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কোনো ফি ছাড়াই সম্পন্ন করার দাবি তোলা হয়েছে।একইসঙ্গে শৃঙ্খলা মেনে টোটো চালকদের অবাধে চলাচলের আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর পরিবহণ দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে শোরুমের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশকে ঢাল করে শোরুমগুলো চালকদের পকেট কাটছে। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও সমস্যার মূলে কোনো সমাধান মেলেনি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় এলে টোটো রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে এবং পূর্বে আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যত উপেক্ষিত।
ই-রিক্সা চালক ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অসংগঠিত ক্ষেত্রের এই লক্ষ লক্ষ চালক আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার যদি অবিলম্বে এই স্বনির্ভর মানুষদের দাবি মেনে না নেয় এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তবে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে আমাদের সংগঠন।”

Comments :0

Login to leave a comment