Purba Bardhaman Incident

এবার দলবেঁধে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ দেওয়ানদিঘীতে

রাজ্য জেলা

ধর্ষণ করে খুনের প্রতিবাদে মিছিল করে থানায় চলেছেন প্রতিবাদী মানুষ

শঙ্কর ঘোষাল: দেওয়ানদিঘীে

বারুইপুরের পর এবার বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানা এলাকায় এক আদিবাসী মহিলাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। সোমবার রাতে এই হাড় হিম করা  ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। নির্যাতিতার শরীরে একাধিক জায়গায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান ধর্ষণের পর ক্যানেলের মাটিতে মুখ গুঁজে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। গোপন অঙ্গে নখের ক্ষতও চোখে পড়েছে গ্রামের মানুষের। অভিযোগ, ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নির্যাতিতার স্বামীও স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন দলবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী’কে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবর করেছে পরিবার ও গ্রামবাসীরা। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনেরর প্রচারে এসে বলেছেন, বিজেপিকে জয়ী করলে রাজ্য থেকে হয় আউট হবে ভরসা প্রবেশ করবে। এখন দেখছি নতুন সরকারের উপর ভরসা হারিয়ে ভয় ক্রমশ গ্রাস করছে মানুষকে। আগের সরকারের সময়ে যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে দুষ্কৃতীরা মদের ঠেক তৈরি করে অরাজক পরিস্থিত তৈরি করে রেখেছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও মদের আসর নিয়মিত বসতো এই অঞ্চলে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিহতের একটি সাড়ে নয় বছরের মেয়ে ও সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে আছে। সোমবার রাতে নির্যাতিতা স্বামীকে খুঁজতে বেড়িয়ে তিনি নিখোঁজ হন। স্বামী বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রামে খুঁজেও স্ত্রী’র দেখা না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। সকালে গ্রামবাসীরা দেখেন ক্যানেলের ধারে মহিলার দেহ রয়েছে। মহিলার সারা দেহে আচড়ের চিহ্ন, মাংস খুবলে নেওয়া হয়েছে। মাথা ক্যানেলের কাঁদায় গুঁজে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবারের বউ বন্ধকী মাইক্রোফিনান্সের ঋণ ছিল, সেই কিস্তির টাকা মঙ্গলবার নেবার কথা ছিল। পরিবারের অভিযোগ তাঁদের বাড়ি মাঠির ধারে তার পাশেই তালগাছের নিচে বসে মদের আসর বসেছিল সেদিন। কিন্তু মদের আসর ভাঙ্গার পরই নির্যাতিতার আর খোঁজ মেলেনি। এদিন নির্যাতিতার পরিবার শুধু নয় গোটা গ্রাম ধর্ষক ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। 
দলবদ্ধ ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে এদিন সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে দেওয়ান দিঘী থানায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। ৫জনের এক প্রতিনিধিদল থানার ওসি’র সাথে দেখা করে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছে নির্যাতিতার গ্রাম এলাকায় দুষ্কৃতীদের দীর্ঘদিনের ওঠাবসা। যেভাবে এক আদিবাসী মহিলাকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তাতে বারুইপুরের ঘটনার পর ফের এই নৃশংস ঘটনা সমগ্র সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই অভিযোগও করেছেন সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধিদল। দাবি করা হয়েছে,ঘটনার নিরপেক্ষ, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা রোধে এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২জনকে আটক করা হয়েছে তবে প্রকৃত অপরাধীদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরও মূল অভিযুক্ত’রা এখনও অধরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা নাগাদ দেওয়ানদিঘী থানার সামনে মিছিল করে সিপিআই(এম)। বক্তব্য রাখেন মহিলানেত্রী সুপর্না ব্যানার্জি, পার্টি নেতা মৃনাল কর্মকার, ছাত্র-যুব নেতা চন্দন সোম, প্রবীর ভৌমিক সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

Comments :0

Login to leave a comment