Baruipur Rape Murder

বারুইপুরে নাবালিকা খুনে নতুন তথ্য, ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়েই নির্যাতনের অভিযোগ: ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা

রাজ্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত তিন অভিযুক্তের মধ্যে একজন প্রথমে নাবালিকাকে একটি ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল বাকি দুই অভিযুক্ত। এরপর সেখানেই নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে সন্দেহ পুলিশের।
ধৃত তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফরেন্সিক এবং ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা এবং ঘটনার সঠিক ক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতনের আগে অভিযুক্তরা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করেছিল বলেও তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাবালিকার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। সেই আঘাত কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে লেগেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসা-সংক্রান্ত মতামত এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা নাবালিকার দেহ গোপনে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। পুলিশের অনুমান, প্রথমে তাকে ঝুপড়ির ভিতরে রাখা হয়েছিল। পরে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেহ সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে কাছের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে সন্দেহ।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, নির্যাতন এবং খুনের ঘটনাটি ওই ঝুপড়ির ভিতরেই ঘটেছিল কি না।
এদিকে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালিকার মৃত্যু অ্যান্টি-মর্টেম ড্রাউনিং বা জীবিত অবস্থায় জলে ডুবে হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ, তাকে যখন পুকুরে ফেলা হয়, তখন সে জীবিত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ফরেন্সিক ও ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, পুকুরে ফেলে দেওয়ার আগে গুরুতর আঘাতের কারণে নাবালিকা অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। ময়নাতদন্তে ফুসফুস এবং পাকস্থলীতে জল পাওয়া যাওয়ায় সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, দেহ ফেলে দেওয়ার পর তিন অভিযুক্ত আলাদা আলাদা পথে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, একদিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সূর্যপুর হাট এলাকায় একটি বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় ১১ বছরের ওই নাবালিকার দেহ। ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা বারুইপুর-জয়নগর রোড অবরোধ করেন, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

Comments :0

Login to leave a comment