অনিন্দিতা দত্ত
খরস্রোতা বালাসনের ওপর দুধিয়া এলাকায় অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু বিপর্যয়ের কারণে ঘুরপথে ফিরছেন আটকে পড়া পর্যটকেরা। দার্জিলিঙ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দূর্যোগ পরিস্থিতিতে একাধিক রূটে যান চলাচলের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ জুন রাত থেকে চলা অবিরাম মেঘ ভাঙা ভারি বৃষ্টির জেরে শুক্রবার ভোরে দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী সেতু বিপর্যয়ের কারণে শিলিগুড়ি—মিরিক ও পাহাড়গামী যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দার্জিলিঙ জেলা পুলিশের তরফে জরুরি ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। একাধিক রূটে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা বিকল্প পথ ধরেই যাতায়াত করেছেন।
জানা গেছে, দুধিয়ায় সেতু বিপর্যয়ে বহু পর্যটক মাঝপথে আটকে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আটকে থাকা পর্যটকদের সুখিয়াপোখরি, ঘুম এবং রোহিনী হয়ে ঘুরপথে নিরাপদে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বিকল্প পথ ধরে যাতায়ারে দীর্ঘ সময় লাগছে। এছাড়াও মিরিক থেকে শিলিগুড়ি গামী সমস্ত গাড়িগুলিকে সুখিয়াপোখরি, ঘুম ও কার্শিয়াঙ হয়ে নামতে হচ্ছে। একইভাবে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক গামী গাড়িগুলিকেও রোহিনী, কার্শিয়াঙ ও ঘুম হয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে। রোহিনী রোডকে বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কার্শিয়াঙ ও দার্জিলিঙমুখী যান চলাচলের ক্ষেত্রে। জানা গেছে, সুরক্ষা ও নিরাপত্তাজনিত কারনে সুকনা টিসিপি মোড় থেকে কার্শিয়াঙ পরযন্ত এনএইচ ১১০নম্বর জাতীয় সড়কের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর অস্থায়ী সেতু মেরামত করে আগামী দুই তিনদিনের মধ্যেই চালু করার চেষ্টা চলছে। ফলে পর্যটন মরশুমে স্বাভাবিক যানচলাচল সম্ভব হবে অস্থায়ী সেতু দিয়ে। পাশাপাশি স্থায়ী সেতু নির্মানের কাজও জোরকদমে চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন স্থায়ী সেতু নির্মানকাজ শেষ হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ভারি বর্ষনের আশঙ্কায় সিকিমের গ্যাঙটক জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক অবস্থান গ্রহন করা হয়েছে। অভিযোগ, ডিকচু ও সিংতাম সড়কে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলাকালীন জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ দিয়ে নিকাশীনালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির জল উপছে স্থানীয়দের বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্মানকারী সংস্থাকে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা শাসক নির্দেশ দিয়েছেন।
Comments :0