বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি বারুইপুরের এনকাউন্টার ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিআইডিকে তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছে। সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী চলবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
বুধবার ভোররাতে ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, হেপাজতে থাকা অবস্থায় এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতেই সে গুরুতর জখম হয়। পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়ায় বুধবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের জন্য। সেই সময় আচমকাই এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। অভিযোগ, পালানোর সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায় অভিযুক্ত। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুলিবিদ্ধ হয়।
উল্লেখ্য প্রভাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাকি অভিযুক্তদের আটক করেছে পুলিশ। পুকুরের কোথায় দেহ ফেলা হয়েছিল রবিবার প্রভাসই তা জানায়।
এই ঘটনায় প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে বলেন, ‘ও যা করেছে, তার শাস্তি ও পেয়েছে।‘ তিনি আরও জানান, পুলিশ বাড়িতে এসে ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করে দেহ শনাক্ত করার জন্য ডাকলেও তিনি যেতে রাজি হননি। তার কথায়, ‘আমি ওর মুখ দেখতে চাই না। পরিবারের কেউই দেহ নিতে যাবে না।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিল এবং কখনও তার কথা শুনত না।
এদিকে, মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারুইপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই নিয়ে ধর্ষণ-খুনের মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল চার। এর আগে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়েছিল ১১ বছরের ওই নাবালিকা। পরদিন সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ধর্ষণের পর খুন করে দেহটি বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বারুইপুর-জয়নগর রোড অবরোধ করেন, টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখান। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি ডিজিপি সিদ্ধ নাথ গুপ্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে জড়িত প্রায় ২০০ জনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও গ্রেপ্তারি অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Baruipur Rape Murder
বারুইপুর এনকাউন্টারের তদন্ত করবে সিআইডি
×
Comments :0