Suvendu Adhikari

সরকারি প্রকল্প ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ‘অনুপ্রবেশ’ ও ‘বোরখা’

রাজ্য

আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করবে রাজ্য সরকার। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং ওই দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ফর্ম প্রকাশ করা হবে। অনলাইনেও করা যাবে ফর্ম ফিলাপ।
তবে এদিনও মুখে ‘সকলের সরকার’ বললেও সাম্প্রদায়িক কথা শোনা গিয়েছে সংবিধানের নামে শপথ নেওয়া একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘কাল ফর্ম পালবিশ করা হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনার। কাল থেকে এই প্রকল্পের নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যতক্ষন না পর্যন্ত তিন হাজার দেওয়া হবে ততক্ষন লক্ষ্মীর ভান্ডার চলবে।’’ এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা এই দেশের নাগরিক তারা ওই প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ থেকে আসা কোন অনুপ্রবেশকারি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না।’’
উল্লেখ্য রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআরের সময় বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা বার বার বলে এসেছিল অনুপ্রবেশকারিদের চিহ্নিত করে তাদের দেশের বাইরে পাঠানো হবে। বিহারেও একই কথা তারা বলেছিল। কিন্তু দুই রাজ্যে এসআইআরে একজনও অনুপ্রবেশকারিকে চিহ্নিত করতে পারেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে বহু মানুষকে এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 
শুধু অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ক্ষেত্রে বলার সময় নয় সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে টিকিটের কথা বলতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ছিল সাম্প্রদায়িক কথা। তিনি বলেন, ‘‘১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে টিকিট চালু হচ্ছে। পরে সরকার কার্ড চালু করবে। আগে এই রাজ্যে পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতো। এখন যদি কোন পুরুষ বোরখা পড়ে সরকারি বাসে উঠে পরে তবে সেই ক্ষেত্রে চালক বা কন্ডাক্টরের ক্ষমতা নেই বোরখা সড়িয়ে মুখ দেখার। তাই কার্ড পরবর্তী ক্ষেত্রে চালু করা হবে।’’
উল্লেখ্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বোরখা পড়েন। সেই ক্ষেত্রে একটি সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিন্দনীয় বলেই অনেকে মনে করছেন। প্রশ্ন এখানেই সরকার কেন প্রথম থেকেই কার্ড চালু করলো না।  

এদিন তিন জেলাকে নিয়ে কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার কী চাইছে তা নির্বাচীত বিধায়কদের এবং প্রশাসনের জানা উচিত। প্রশাসনের প্রতিটা স্তরে দৃষ্টিভঙ্গী পৌঁছানো দরকার। তাই এই বৈঠক।’’ 
এদিনের বৈঠকে বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি ছিলেন তৃণমূলের ছয় বিধায়ক এবং বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দোস্তিদার। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অদিকারী বলেন, ‘‘আমরা প্রথমেই বলেছিলাম সব বিধায়ক এবং বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকা হবে। আগের সরকার বিরোধীদের ডাকতো না। এদিন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদকে ডাকা হয়েছিল, তিনি ছিলেন। বিরোধী বিধায়ককে বৈঠকে বলতে দেওয়া হয়েছে।’’ 
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন রাজ্যের সব ব্লক, পৌরসভায় ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ অনুষ্ঠান পালিত হবে। প্রতিটা বিধায়ককে ফলের গাছ দেওয়া হবে। তারা তা বিতরণ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬, ১৭ জুন বিডিও, পৌরসভার প্রধান আধিকারিকরা দায়িত্ব নিয়ে জণকল্যান শিবির করবে। মানুষকে সরকারি প্রকল্পের বিষয় জানানো হবে, সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। ২১ জুন রাজ্যে পালিত হবে বিশ্ব যোগ দিবস।  
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন স্বাস্থ দপ্তরের থেকে আলাদা করে তৈরি করা হবে আয়ুষ দপ্তর। ক্যাবিনেটে তার অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন এদিনের বৈঠকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জোড় দেওয়ার পাশাপাশি, বিভিন্ন জায়গায় বর্ষা সমস্যার মোকাবিলা নিয়েও হয়েছে আলোচনা। এছাড়া এদিন মা ক্যান্টিন থেকে সপ্তাহে দুদিন পাঁচ টাকায় মাছ ভাত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।
‘মুখ্যমন্ত্রীকে বলো’র নাম বদলে কার হচ্ছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই নাম ঠিক করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Comments :0

Login to leave a comment