অমিত কুমার দেব: কোচবিহার
জন্মের পর থেকে এই ভূখণ্ডেই বড় হয়ে ওঠা তাদের। এদেশের প্রাকৃতিক অক্সিজেনে আজও নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তারা। এদেশের জলবায়ুর স্পর্শেই চলমান জীবনের গতিপথ ছিল তাদের। কিন্তু আজ জীবনের গতিপথ অবরুদ্ধ করেছে রাষ্ট্র। বেনাগরিক বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের। এই মুহূর্তে কার্যত নিজ ভূমে পরবাসী সাবানা খাতুন, ফতেমা বিবি, কামাল হোসেন-রা। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে নেই কেউই। শুধু মাত্র লাল ঝাণ্ডাই প্রতিনিয়ত পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের। তাদের মতো বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতেই মঙ্গলবার সারা ভারত কৃষক সভার লাল ঝান্ডা হাতে কোচবিহারের রাজপথে মিছিলে পা মেলাতে দেখা গেল তাদের। তীব্র দাবদাহে তপ্ত দুপুরে তাদের ঘামে ভেজা শরীর জানান দিলো নিজেদের দাবি আদায় করতে বদ্ধপরিকর তারা।
অবিলম্বে সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, ফসলের লাভজনক দাম সহ বর্তমানে বোরো ধানের মরশুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরকারকে ধান ক্রয় করা, রাসায়নিক সারের কালোবাজারি বন্ধ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা, গ্রামীণ গরুর হাটগুলিতে ক্রয় বিক্রয় অবিলম্বে সচল করা দাবির পাশাপাশি একাধিক দাবিকে সামনে রেখে এদিন কোচবিহার শহরে মিছিল সহ কোচবিহার জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও ১৫দফা দাবিতে কোচবিহার জেলা শাসককে ডেপুটেশন দিল সারা ভারত কৃষক সভা। সারা ভারত কৃষক সভার এই আন্দোলন কর্মসূচিতে কৃষক সহ বিভিন্ন কৃষক পরিবারের সদস্য সদস্যাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিন কোচবিহার শহরের সার্কাসের মাঠ সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয় কৃষকদের এক সুবিশাল মিছিল। কোচবিহার শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে এই মিছিল সমবেত হয় কোচবিহার সাগরদিঘি সংলগ্ন ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন গণ আন্দোলনের নেতা মীনাক্ষী মুখার্জি, অলকেশ দাস, অনন্ত রায়, সারা ভারত কৃষক সভা কোচবিহার জেলা সম্পাদক আকীক হাসান, খেত মজুর আন্দোলনের নেতা ধনঞ্জয় রাভা, ছাত্রনেতা প্রণয় কার্য্যী প্রমুখ। এই আন্দোলন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান পার্টি নেতা তারিণী রায়, উদ্বাস্ত আন্দোলনের নেতা মহানন্দ সাহা প্রমুখ। এই সভা চলাকালীন জেলা শাসকের হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল।
Comments :0