Assembly OBC bill

রাজনৈতিক স্বার্থে যেন ব্যবহার না হয় ওবিসি সংশোধনী : মোস্তাফিজুর

রাজ্য

‘পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নতির জন্য ওবিসি আইন এনেছিল বামফ্রন্ট। সংশোধনীর নাম করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের যেন ব্যবহার না করা হয় ওবিসি বিলকে।’ বিধানসভায় ওসিবি সংশোধনী বিলের ওপর আলোচনায় বললেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। 
সোমবার ওবিসি আইন সংক্রান্ত দুটি বিলে বিধানসভায় পেশ করেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিলের ওপর আলোচনা করার সময় মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সচার কমিটির রিপোর্টে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থিক ভাবে সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়ার কথা উঠে আসে। রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য রিজার্ভেশনের কথা বলে। বামফ্রন্ট সরকার সেই সুপারিশ মেনে সংরক্ষণ চালু করে। সমীক্ষা করে সরকার ওবিসি এ এবং বি দুটি বিভাগ তৈরি করে।’
তিনি বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে ওবিসি নিয়ে জল ঘোলা করা হয়েছে এই নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে যে কোন বিল পেশের সময় বা সংশোধনের সময় মাথায় রাখতে হবে তা যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা না হয়। তৃণমূল ১৫ বছর সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের কথা বলে আদতে ঠকিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের। 
মোস্তাফিজুর বলেন ওবিসি-এ ক্যাটাগরিতে যারা বর্তমানে কর্মরত তাদের যেন কোন সমস্যা না হয় সেই দিকে নজর দিতে হবে। 
যেই দুটি বিলে পেশ করা হয়েছে তা হচ্ছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান SC অ্যান্ড ST) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। 
নতুন বিলে বলা হয়েছে ওবিসি সংরক্ষণের জন্য মোট ক্যাটেগরি ‘এ’-র আওতায় ৬৫টি জনগোষ্ঠী রয়েছে। তৃণমূল জমানায় তৈরি আইনে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রয়েছে ৭৮টি জনগোষ্ঠী। সেই তালিকা সম্বলিত তফশিল বা শিডিউল ওয়ান বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন বিলে। পাশাপাশি অনগ্রসর কমিশনে কোনও গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে।
রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ চালু করে বামফ্রন্ট সরকার। কে, কতটা পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসরতার নিরিখে দু’টি ক্যাটেগরি (এ এবং বি) চালু করা হয়। দুই ক্যাটেগরির জন্য যথাক্রমে ১০ ও ৭ শতাংশ সংরক্ষণ ধার্য করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে ওই আইন সংশোধন করে মমতা সরকার। তখন ক্যাটেগরি ‘এ’-র মধ্যে ৬৫টি এবং ক্যাটেগরি ‘বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা জোড়া হয়। তফশিলি জাতি থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদেরও ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রাখা হয়। 
ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই বিলের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘এই বিলটির কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখা নেই। রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিলের ফলে অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে আরও ভেদাভেদ তৈরি হবে। বরং আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে বিচার করে সংরক্ষণ করা হোক। তাতে বিধানসভায় নয়া নজির তৈরি হবে।’

Comments :0

Login to leave a comment