TMC Dilip Mondal

আটক তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল

রাজ্য

পুরীর ব্লু লিলি হোটেল থেকে আটক বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং ডায়মন্ড হারবার থানার যৌথ অভিযানে তাকে পুরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ১৩ দিন ফেরার ছিলেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিলীপ। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে দায়ের হয় মামলা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গ্রেপ্তার হলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর ধৃত বিধায়ককে আনা হচ্ছে কলকাতায়। 
গত ১৪ মে থেকে ফেরার দিলীপ মণ্ডল। তাকে খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাসি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।  ১৭ মে রাতে ডায়মন্ড হারবার থেকে গ্রেপ্তার হয় বিষ্ণুপুরের ফেরার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের ছেলে অভীক মণ্ডল। সেদিন রাতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানের সময় তৃণমূল বিধায়কের ছেলের কাছ থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র। পাঁচ বন্ধকে সাথে নিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতার ছেলে। রাস্তায় গাড়ি আটকে হয় তল্লাসি। 
বৃহস্পতিবার সকালে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশের একটি দল হানা দেয় বিধায়কের পৈলানের বাড়িতে। পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও পৌঁছে যান বিধায়কের বাড়ির সামনে।
সম্প্রতি তৃণমূল বিধায়কের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে হুমকি দিচ্ছেন অভিষেক ঘনিষ্ট দিলীপ মণ্ডল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ দায়ের হয় বিধায়কের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার সকালে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পুলিশ আসার আগেই বাড়ি থেকে পালায় দিলীপ। পুলিশি এই হানার পর থেকে দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়তে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য পুলিশ হানা দেওয়ায় তৃণমূল বিধায়করে বাড়ির অন্দর মহলের ছবি সামনে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। পৈলানে তৃণমূল বিধায়কের দু’টি বাড়ি রয়েছে। দু’টি বাড়িতেই হানা দেয় পুলিশ। পুলিশ আসার আগেই পালায় দিলীপ। তবে তার দুটি বাড়ি মধ্যে একটি তৈরি হয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে। রয়েছে বাগান, সুইমিং পুল। দোলনা এবং বিভিন্ন পশু পাখির মাটির মূর্তি। রিসর্টের মতো সাজানো বাড়ি এবং বাগান। বিধায়ক আয়ের উৎস কী তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সুসজ্জিত সেই বাড়িতেও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি অভিযান চালান পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকেরা। বাড়ির বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকেরা।

Comments :0

Login to leave a comment