Ram Mandir Theft

রামমন্দিরে অনুদান তছরুপ: তিন মাস আগেই কর্মী বদলের সুপারিশ করেছিল এসবিআই

জাতীয়

অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ তছরুপের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, প্রায় তিন মাস আগেই অনুদানের অর্থ গোনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে চুরির সন্দেহ প্রকাশ করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)। কিন্তু মন্দির ট্রাস্টের কয়েকজন শীর্ষকর্তার হস্তক্ষেপে সেই পদক্ষেপ কার্যকর করা যায়নি বলে অভিযোগ।
তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রামমন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের বয়ান রেকর্ড করেছে। তদন্তকারীদের কথায়, প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওকেও শীঘ্রই নোটিস পাঠানো হতে পারে। চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র ট্রাস্ট থেকে পদত্যাগ করলেও, গোপাল রাওও ট্রাস্টের কার্যকলাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
এখন পর্যন্ত অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
রামমন্দির ট্রাস্টের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পরিচালনা করে এসবিআই। অনুদানের অর্থ গোনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি আউটসোর্সিং সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে থেকেই অনুদানের অর্থে গরমিলের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল এসবিআই।
জানা গিয়েছে, আউটসোর্সিং সংস্থাও ওই কর্মীদের অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। কিন্তু ট্রাস্টের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্তার হস্তক্ষেপে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। অভিযোগ, চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রের প্রভাবের কারণে এসবিআই শেষ পর্যন্ত কর্মীদের অপসারণে সফল হয়নি এবং অনুদান তছরুপের ঘটনা চলতেই থাকে।
তদন্তে এসবিআই-র দুই কর্মী রত্নেশ এবং গগনদীপের ভূমিকাও সামনে এসেছে। দু'জনেই ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন এবং অনুদানের অর্থ গোনার সময় তারা উপস্থিত থাকতেন। পুলিশ দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে চুরিতে জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অনুদান গোনার কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়োগ করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, রামাশঙ্কর মিশ্র, অবনীশ এবং করুণেশ শুক্লাকে একটি আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এদের অধিকাংশই ট্রাস্টের কয়েকজন কর্মকর্তার আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ পরিচিত এবং রত্নেশ ও গগনদীপের তত্ত্বাবধানে কাজ করতেন। এছাড়া সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং টিন্নু যাদবকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে রামমন্দির ট্রাস্ট। নতুন কর্মীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক যাচাই-বাছাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং নিয়মিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে বলে সূত্রের খবর।
এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ১১ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠকে নেওয়া হতে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment