প্রতীম দে: তারাতলা
সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে বুলডোজার এম্বুলেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের গাড়ি। তবে এই বুলডোজার কোন উচ্ছেদের জন্য আনা হয়নি। আনা হয়েছে উদ্ধার কাজের জন্য।
তারাতলার যেই নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়েছে সেই গোডাউনে আজ সকালেই কাজ করতে এসেছিলেন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় সকাল সাড়ে নটার কিছু পরে হুর মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ওই গোডাউন। সাধারণত যে কোন কাঠামো কংক্রিটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এই কাঠামো বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে সাধারণ লোহার বীমের ওপরে নির্ভর করে। অর্থাৎ সেই মজবুতি নেই। অনেকেই দাবি করছে অতিরিক্ত ভার সামাল দিতে না পেরে ঘটেছে এই বিপর্যয়।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন ইমরান খান, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তিনি প্রাক্তন সেনা কর্মী। তার কাছে যখন জানতে চাওয়া হয় ঠিক কি ঘটেছিল তখন তিনি বলেন, 'সকালে এই নির্মীয়মান গোডাউনটি ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়েই আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা এসে উপস্থিত হই তখনও পুলিশ আসেনি। আমি একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী। এই ধরনের উদ্ধার কাজে আগেও যুক্ত থেকেছি । সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এদিন উদ্ধারকাজ শুরু করি। স্থানীয় উদ্যোগে গ্যাস কাটার এনে আমরা লোহাগুলোকে কাটতে শুরু করেছি। বহু মানুষ ভিতরে আটকে ছিলেন। কয়েকজন মারাও গেছেন। তখন একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলাম যিনি সুস্থ ছিলেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। '
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন প্রসাদ সকালবেলা এই উদ্ধারকার যে হাত লাগান। তিনি বলেন যে চার পাঁচ জনকে তারা উদ্ধার করে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এখনও পর্যন্ত প্রশাসন সঠিকভাবে বলছে না ঠিক আহত এবং মৃতের সংখ্যা কত। কিন্তু এসএসকেএম থেকে তারাতলার দিকে যাওয়ার রাস্তা দিয়ে সারি সারি এম্বুলেন্স এগিয়ে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এইটুকু জানানো হয়েছে আহতদের নিয়ে আসা হচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে যান। ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ।
বিপর্যয় মোকাবিলা দল কলকাতা পুলিশ দমকলের পাশাপাশি সেনাবাহিনী সেনাবাহিনীর কর্মীরাও এই উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন। ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটেছে সেই এলাকা কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। এলাকার বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। এই ভয়াভহ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি এলাকার বিধায়ককে।
স্থানীয়দের দাবি বিধায়ক এবং কাউন্সিলরের মদতে পোর্টের জমি দখল করে চলেছে একাধিক বেআইনি কাজ। ওই এলাকায় গেলেই বোঝা যাবে বহু কারখানা দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথা তুলে যেগুলি প্রায় ভঙ্গুর অবস্থা, সেখানে বহু মানুষ কাজ করছেন নেই তাদের কোন নিরাপত্তা। হয়তো তাদের কোন সামাজিক সুরক্ষাও ওই সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় না।
Comments :0