Suvendu Adhikari

শ্যামাপ্রসাদ স্মরণে শুভেন্দুর নিশানায় বামপন্থীরা

রাজ্য

শ্যামাপ্রসাদের প্রয়ান দিবসের অনুষ্ঠানে গিয়ে বামপন্থীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রুী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরের শাসনকাল এবং পরবর্তী দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের অবদান সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছিল।’
উল্লেখ্য নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে বিজেপি। ইতিহাসকে বিকৃত করে বিজেপি দাবি করছে একা শ্যামাপ্রসাদের জন্যই তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। উল্লেখ্য যেই সময় বাংলা ভাগ হয় তখন আইনসভায় একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি। সেই সময় আইনসভায় বাংলা ভাগের প্রস্তাব পাশ হয়েছিল সংখ্যা গরিষ্ঠতার মতের ভিত্তিতে। 
এদিন বিধানসভায় শঙ্কর ঘোষ অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানান বিধানসভায় শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিবস পালনের। মঙ্গলবার শ্যামাপ্রসাদের প্রয়ান দিবসে তার স্মৃতির প্রতি একমিনিট নিরবতাও পালন করা হয় বিধানসভায়।
উগ্র হিন্দুত্ববাদের অন্যতম উদ্গাতা বিনায়ক দামোদর সাভারকারের প্রতি বিশেষ ভাবে আকর্ষিত হওয়া থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতি আনুগত্যের কারণে শ্যামাপ্রসাদ কংগ্রেসের সদস্যপদ ছেড়ে হিন্দু মহাসভায় ১৯৩৯ সালে যোগদান করেন। এক বছর পরেই বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু তার আগে, ১৯৩৬ সালে একটি সমাবেশে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে ‘আদর্শ ভারতীয়’ বলেছিলেন শ্যামাপ্রসাদই। আবার তিনিই ১৯৪০-এ ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লিগের সঙ্গে জোটে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকারের অর্থমন্ত্রী রূপে শপথও নিয়েছিলেন। সাভারকার তখন ‘কৌশলগত রাজনৈতিক বোঝাপড়া’ নীতি নিয়ে চলছিলেন। 
আবার বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়েও ব্রিটিশের পক্ষে আনুগত্য দেখিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। বাংলার তৎকালীন গর্ভনর জন হারবার্টকে লেখা চিঠিতে সুপরিকল্পিত ভাবে ‘বাংলায় বিয়াল্লিশের আন্দোলনকে কী করে ভঙ্গুর করতে হবে’, সেই পরামর্শও দিয়েছেন। উল্লেখিত চিঠিতে এটিও বলা হয় যে তৎকালীন সিন্ধু প্রদেশের সরকারের মতো বাংলার হিন্দু মহাসভা-মুসলিম লিগ জোট সরকার যাতে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরুদ্ধে সব রকমের আইনি, প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়। 
অর্থাৎ, আজকে বিজেপি’র যেভাবে ‘বাংলার জনক’ বলে শ্যামাপ্রসাদকে পেশ করছে তা আসল ইতিহাসকে অস্বীকার করছে। বরং, মিথ্যার আস্তরণে পেশ করা হচ্ছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েই।  

ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতায় তাকে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শ্যামাপ্রসাদের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল রাজ্য বাজেটে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি তৈরি, বাড়ি সংরক্ষণ এবং তার স্মৃতিতে পার্ক, গ্রন্থাগার ও স্মারক তৈরির জন্য সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুটের মূর্তি তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তার ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণের জন্য ভূমিপুজো করা হবে। একইসঙ্গে ওই দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment