USA - IRAN

মার্কিন বিমান হামলায় ফের উত্তপ্ত ইরান, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাহরিন-কুয়েত-কাতারে

আন্তর্জাতিক

পারস্য উপসাগরে সংঘাত আরও একবার তীব্র আকার নিল। বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরিন, কুয়েত এবং কাতারের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। ফলে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার পর যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। এরপরই বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বন্দর এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের প্রায় ৯০টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, কোনারাক, সিরিক-সহ একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরান শহরে একটি বিমানবন্দরে হামলায় এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে বাহরিনে অন্তত দু'বার সাইরেন বেজে ওঠে। বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর রয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে বাহরিন, কুয়েত ও কাতারে ক্ষয়ক্ষতির কোনও সরকারি তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
প্রথমবারের মতো এপ্রিলের পর ইরানের সেতুগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। গোলেস্তান প্রদেশের একটি রেলসেতুতে হামলার পাশাপাশি মাশহাদের পথে আরও দুটি সেতুতে আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি। বৃহস্পতিবার মাশহাদে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিস্ফোরণের একাধিক ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘গতকাল ইরানের জাহাজে হামলার প্রতিশোধেই এই অভিযান। ভবিষ্যতে আবার এমন ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এমনকি অতীতে করা হুমকির পুনরাবৃত্তি করে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, লবণাক্ত জল শোধনাগার এবং খার্গ দ্বীপের তেল উৎপাদন কেন্দ্রেও হামলার ইঙ্গিত দেন।
ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমেরিকা এখনও বুঝতে পারেনি যে হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হয়। স্পষ্ট করে বলছি, তোমরা আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পাবেই।’
এদিকে উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ট্রাম্পের মন্তব্যকে মার্কিন নীতির ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি বলে কটাক্ষ করেছেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার মতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। যদিও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তার কথায়, ‘আলোচনা চলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা সময় নষ্ট করছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ ফের বড় আকার নিতে পারে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণও আবার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে।
এদিকে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শেষ হওয়ার পর স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই আলোচনায় হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়ার কথা ছিল। তবে সর্বশেষ সংঘর্ষের জেরে সেই আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment